Connect with us

ফুটবল

রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনে বাকরুদ্ধ স্কালোনি

Published

on

সৌরভ রায়, আটলান্টা: লিওনেল স্কালোনি, যিনি আরও একবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আর্জেন্টিনাকে। শেষ চার ম্যাচে নকআউট পর্বে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালে লিওনেল মেসিরা। অধিকাংশ ম্যাচই নিষ্পত্তি হয়েছে শেষ কোয়ার্টারে। বাজিমাৎ করেছে স্কালোনির রিজার্ভ বেঞ্চ। সুপার সাব লাওতারো মার্টিনেজ বা রডরিগো ডি’পলরা আর্জেন্টাইন কোচের তুরুপের তাস। বুধবার চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের পর মেসিদের হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “যতই কঠিন পরিস্থিতি আসুক আমরা সেরা খেলাটা খেলার জন্য তৈরি থাকি। যে সময় ইংল্যান্ড একটু চাপে পড়েছিল, আমরা সেই সুযোগ তাই কাজে লাগাতে চেয়েছি। আক্রমণ করেছি, গোল এসেছে। মনে হচ্ছিল রক্তের স্বাদ পেয়ে গিয়েছিলাম, ওদের ছিরে খেয়েছি।” ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি আর্জেন্টিনার হেড কোচ। তিনি বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ। এই দলটা প্রতিবারই আমাকে বিস্মিত করে। চাপের মুহূর্তেই তারা নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলতে পারে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ৪০ মিনিট ছিল ফুটবলের প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি।”

বুধবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ১৯৮৬-এর স্মৃতি ফিরিয়েছেন লিওনেল মেসিরা। তবুও মারাদোনার ঐতিহাসিক জয়ের সঙ্গে এই জয়ের তুলনা করতে চান না স্কালোনি। তিনি বলেন, “মারাদোনার দুটি গোলই ঐতিহাসিক এবং চিরন্তন। ওই ম্যাচের সঙ্গে এই ম্যাচের তুলনা হয় না। তবে এটা বলতে পারি, প্রতি ম্যাচেই আমরা উন্নতি করেছি। তবে এখন আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বজয় করা।” অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্ডেজ। আর্জেন্টিনার হয়ে জয় সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ম্যাচ শেষে মার্টিনেজ বলেন, “স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এই দল বারবার প্রমাণ করছে, তারা কী দিয়ে তৈরি।” সতীর্থ এনজো ফার্নান্ডেজের প্রশংসা করে মাটিনেজ বলেন, “এনজো ঠিক সময় দুর্দান্ত একটা গোল করেছে। যার ফলে আমাদের কাজটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।”

অন্যদিকে, গোল না করেও সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বধের নায়ক লিওনেল মেসি। দুটি গোলের পিছনেই তাঁর অবদান রয়েছে। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “এই ম্যাচটা সব ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকদের এই জয়টা উপহার দিতে পেরে ভালো লাগছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ওঠার মত আনন্দ আর কিছুতেই নেই।” তিনি আরও বলেন, “এই ম্যাচটা আমরা কোনোভাবেই হারতে চাইনি। তাই আনন্দ অনেক বেশি হচ্ছে। আমি জানি গোটা দেশ এখন আনন্দ করছে।” মারাদোনার প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ হয়ে মেসি বলেন, “আমি নিশ্চিত দিয়েগো উপর থেকে এই ম্যাচটা দেখেছে। এই দিনটা ওর কাছেও একটা বিশেষ দিন হয়ে রইলো। এই জয় আমরা মারাদোনাকে উৎসর্গ করলাম।”

ফুটবল

FIFA WC 2026: জামালকে নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই জানিয়ে দিল স্প্যানিশ ম্যানেজমেন্ট

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে স্পেন। তবে প্রথম অনুশীলনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা, দলের সঙ্গে পূর্ণ সময়ে অনুশীলনে দেখা গেল না তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালকে। স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মধ্যে ছড়ায় উদ্বেগ । তবে স্প্যানিশ শিবিরের খবর, উদ্বেগের তেমন কোনও কারণ নেই।
স্পেন ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ইয়ামাল মূল দলের সঙ্গে নয়, আলাদা করে ব্যক্তিগত অনুশীলন করেছেন। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের অত্যন্ত শারীরিক লড়াইয়ের পর তাঁর পায়ে সামান্য আঘাত ও পেশিতে ক্লান্তি রয়েছে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসক ও ফিটনেস দলের তত্ত্বাবধানে তাঁকে ‘লোড ম্যানেজমেন্ট’-এর আওতায় রাখা হয়েছে।
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আশ্বস্ত করেছেন, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফাইনাল থেকে ইয়ামাল ছিটকে যাচ্ছেন না। বরং পরিকল্পনা মাফিক তাঁকে সতেজ রাখাই এখন দলের মূল লক্ষ্য। একই কারণে ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোও আলাদা অনুশীলন করেছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম একাদশেই দেখা যাবে ১৯ বছরের এই তারকাকে।

Continue Reading

ফুটবল

FIFA WC 2026: আবেগঘন বার্তায় সমর্থকদের পাশে দাঁড়ালেন জুড

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারার পর ইংল্যান্ডজুড়ে যখন হতাশা, সমালোচনা আর রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, তখন আবেগঘন এক বার্তায় সমর্থকদের পাশে দাঁড়ালেন জুড বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ড দলের বাসচালক মাইকেল চ্যান্ডলারের হাতে লেখা একটি খোলা চিঠি নিজের ইনস্টাগ্রামে ভাগ করে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জানিয়ে দিলেন, এই বিশ্বকাপ কেবল একটি পরাজয়ের গল্প নয়, বরং ঐক্য ও ভালোবাসারও গল্প।

চিঠিটি ভাগ করে বেলিংহ্যাম লেখেন, “গতকাল এবং গত কয়েক সপ্তাহ নিয়ে কী লিখব, তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু কানসাসে আমাদের বাসচালকের এই কথাগুলো যেন একেবারে মনের কথা বলে দিয়েছে।” এরপর তিনি চ্যান্ডলারের পুরো বার্তাটিই সমর্থকদের উদ্দেশে তুলে ধরেন।

চ্যান্ডলারের চিঠিতে লেখা ছিল, “ঘরের মাঠে থেকে কিংবা নিজের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে আমেরিকায় এসে আমাদের সমর্থন করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এই বিশ্বকাপের সঙ্গে যেন আমাদের দেশের ঐক্য আর ভালোবাসার সমাপ্তি না ঘটে। আমরা যখন একসঙ্গে থাকি, তখন বড় কিছু অর্জন করতে পারি… এবং আমরা তা করব। ভালোবাসা রইল।” পাশাপাশি ইংল্যান্ড দলের বাস চালানোর সুযোগ পাওয়াকে জীবনের অন্যতম বড় সম্মান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খেলোয়াড়দের বিনয়, চরিত্র এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মানসিকতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন চ্যান্ডলার।

বিশ্বকাপে ছয় গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার অন্যতম নায়ক ছিলেন বেলিংহ্যাম। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারের পর তাঁর এই পোস্টই এখন নতুন করে আলোচনায়। রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা স্পষ্ট—পরাজয় সাময়িক, কিন্তু ঐক্যই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Continue Reading

ফুটবল

‘মার্কেটিংয়ের পুতুল নই’, ভবিষ্যৎ ক্লাবকে স্পষ্ট বার্তা কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার

Published

on



রে স্পোর্টজের প্রতিবেদন:২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সেও তাঁর দুর্দান্ত নৈপুণ্য নজর কেড়েছে একাধিক ক্লাবের। ইতোমধ্যেই চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলো তাঁকে দলে ভেড়াতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ গোলকিপার।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভোজিনহা বলেন, “আমি এমন একটি ক্লাবে খেলতে চাই, যারা আমাকে একজন ফুটবলার হিসেবে মূল্যায়ন করবে। কোনো মার্কেটিংয়ের পুতুল বা বিজ্ঞাপনী চমক হিসেবে নয়।” তাঁর মতে, মাঠে পারফরম্যান্সই একজন ফুটবলারের পরিচয় হওয়া উচিত, প্রচারণার মুখ নয়।
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ভোজিনহার নাম জড়িয়েছিল লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গেও। যদিও সেই গুঞ্জন এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় রূপ নেয়নি। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব জিডি চাভেস-এর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ভোজিনহা বলেন, বয়স ৪০ হলেও ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগ এতটুকু কমেনি। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে আরও অন্তত এক থেকে দুই বছর পেশাদার ফুটবল খেলতে চান তিনি। তবে ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করবে তাঁর শরীর কতটা সাড়া দেয় তার ওপর।
কেপ ভার্দের ফুটবলারদের সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। তাঁর ভাষায়, ছোটবেলা থেকেই পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু কেপ ভার্দের মতো ছোট দেশের খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। প্রতিভার পাশাপাশি বিদেশে খেলার সুযোগ পেতে ভিসা ও নানা প্রশাসনিক বাধাও অতিক্রম করতে হয়।
বিশ্বকাপে বয়সকে হার মানিয়ে ভোজিনহার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে ফুটবলবিশ্বকে। তাঁর দৃঢ়তা, নেতৃত্ব এবং দুর্দান্ত গোলরক্ষণ কেপ ভার্দেকে ইতিহাস গড়ার পথে বড় ভূমিকা রেখেছে। এবার দেখার বিষয়, কোলো কোলোর প্রস্তাব গ্রহণ করেন কি না, নাকি অন্য কোনো ক্লাবেই শুরু হয় তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়।

Continue Reading

Trending