ফুটবল
FIFA WC 2026: রেকর্ড ভেঙেও তৃপ্ত নন এমবাপে
রে স্পোর্টজ প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ পৌঁছে লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। কিন্তু ব্যক্তিগত এই কীর্তি তাঁকে আনন্দ দিতে পারেনি। কারণ, তাঁর চোখে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ— বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে না পারা।
ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষ করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমবাপে বলেন, ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলগত সাফল্যই তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফরাসি তারকা বলেন, “আমি চাই প্রতিবারই দলের জন্য গোল করতে। এত গোল করা অবশ্যই বিশেষ অনুভূতি, কিন্তু এই রেকর্ড না পেলেও যদি ফাইনালে খেলতে পারতাম, সেটাই বেশি পছন্দ করতাম।”
রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসির ওপর ভরসা প্রকাশ করেন এমবাপে। হাসিমুখেই তাঁর মন্তব্য, “লিও তো সব সময়ই গোল করে। ফাইনালেও সে অবশ্যই গোল করবে।”
বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অনুভূতি নিয়ে এমবাপে বলেন, এই মুহূর্তে তিনি রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন না। তাঁর কথায়, “ক্যারিয়ার শেষ হলে হয়তো বুঝতে পারব আমি কিংবদন্তিদের একজনের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছি। কিন্তু এখন আমার মাথায় শুধু দলের জন্য আরও ভালো কিছু করতে না পারার আক্ষেপ।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। সেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যায় এমবাপে স্বীকার করেন, শুরুটা ছিল দলের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো।
তিনি বলেন, “প্রথমার্ধ দেখে সমর্থকরা হতাশ হলে আমি তাদের দোষ দেব না। আমরা মানুষ, খারাপ দিন আসতেই পারে। প্রথম ৪৫ মিনিটে আমরা নিজেদের মতো খেলতেই পারিনি।”
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল বলেও জানান তিনি। এমবাপের ভাষায়, “বিরতির পর আমরা অনেক ভালো ফুটবল খেলেছি, অনেক বেশি আবেগ নিয়ে লড়েছি। দ্বিতীয়ার্ধ জিতেছি, কিন্তু ম্যাচটা আর ফিরিয়ে আনতে পারিনি।”
এই ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়ালেন দিদিয়ের দেশম। দীর্ঘদিনের কোচকে জয় উপহার দিতে না পারার আক্ষেপও ঝরে পড়ে এমবাপের কণ্ঠে।
তিনি বলেন, “আমরা ওনার জন্য বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমার্ধে যেভাবে খেলেছি, তাতে মনে হয়েছে আমরা তাঁকে হতাশ করেছি। তবে এই একটি ম্যাচ তাঁর অসাধারণ অবদানকে কখনও ম্লান করতে পারবে না। ফরাসি ফুটবলের জন্য তিনি যা করেছেন, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।”
ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাতেও তাই এমবাপের কণ্ঠে ছিল না উচ্ছ্বাস, ছিল শুধুই অপূর্ণতার আক্ষেপ। আর সেই আক্ষেপের মাঝেও ফুটবল বিশ্বের নজর ঘুরিয়ে দিলেন আরেক কিংবদন্তির দিকে— তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও গোল করবেন লিওনেল মেসি।
ফুটবল
বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহামিলন, মঞ্চমাতালেন শাকিরা থেকে ম্যাডোনা
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের আগে ফুটবল যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল বিশ্ব বিনোদন জগতকে। নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব আবহ, যেখানে সংগীত, সিনেমা ও ক্রীড়া—তিন জগতের মহাতারকারা একই মঞ্চ ভাগ করে নিলেন।
ম্যাচ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন জেনিফার হাডসন। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন পোস্ট ম্যালোন, রবি উইলিয়ামস, লরা পাউসিনি এবং নিকোল শেরজিঙ্গার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড। স্টেডিয়ামের বিশাল পর্দায় তাঁদের দেখা মাত্রই দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি।
তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিরতির হাফটাইম শো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার সুপার বোলের আদলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। মঞ্চ কাঁপান ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা, বার্না বয় এবং বিটিএস। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘Dai Dai’ পরিবেশনের সময় গোটা স্টেডিয়াম গলা মেলায় শিল্পীদের সঙ্গে। জাস্টিন বিবারের পরিবেশনা এবং শাকিরার নাচ সমর্থকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি হাততালি কুড়িয়ে নেয়।
গ্যালারিতেও ছিল তারকাদের ভিড়। ম্যাট ডেমন, টম ক্রুজ, ম্যাডোনা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক তারকা উপস্থিত থেকে উপভোগ করেন ফুটবলের মহারণ।
ফুটবল
FIFA WC 2026: বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেও গর্বিত স্কালোনি
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: কাতারে বিশ্বজয় করলেও এবার নিউ জার্সির ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে অধরাই থেকে গেল আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। স্পেনের কাছে এই পরাজয়ে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলেও পুরোপুরি ভেঙে পড়েননি আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। তাঁর মতে, ফাইনালের মতো মঞ্চে সবটুকু দিয়ে রানার্স-আপ হওয়াটাও অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্কালোনি বলেন, “আমার খুব দুঃখ হচ্ছে। মাঠে আমরা সর্বস্ব নিংড়ে দিয়েছি। যারা আরও এক বার দেশকে ফাইনালে তুলেছে, তাদের সকলকে অভিনন্দন। ওরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। জিতলেও আমরা দারুণ দল ছিলাম, হেরে গেলেও আমরা দারুণ দলই থাকব।” তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আরও যোগ করেন, “জিততেই নেমেছিলাম, তাই সকলে হতাশ। কিন্তু মাঠে নিজের ১০০ শতাংশ দেওয়ার পরেও ফল বিপক্ষে গেলে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। হারলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো শিখতে হয়, অন্য কোনও পথ নেই।”
লিয়োনেল মেসির ভবিষ্যৎ এবং অবসর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার কোচ। তিনি বলেন, “মেসির বয়স এখন ৩৯ বছর, যা অবিশ্বাস্য। ওর কাছ থেকে নতুন করে আমার আর কিছু বের করার নেই। মেসি যত দিন চায় খেলে যেতে পারে। সমস্ত সমর্থক ও সতীর্থরা ওর পাশেই থাকবে। ও যা অর্জন করেছে, তাতে ও-ই নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।”
সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্কালোনি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে নিজের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডিসেম্বরে চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি থাকতে চান। এরপর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) সভাপতির সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে পরাস্ত হয়ে ট্রফি হাতছাড়া হলেও, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের খেলোয়াড়দের ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতি পুরো সমর্থন ও গর্ব প্রকাশ করেন স্কালোনি।
ফুটবল
FIFA WC 2026: সোনার বুট পেলেন এমবাপে,ভসোনার বল রদ্রি! সেরা তরুণ ফুটবলার কুবারসি…
রে স্পোর্টজের প্রতিবেদন: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামল স্পেনের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারেও উঠে এল একাধিক তারকার নাম। বিশ্বকাপজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা ফুটবলার, সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা গোলরক্ষক এবং সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার তুলে দিল ফিফা।
স্পেনের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি জিতে নিলেন গোল্ডেন বল। পুরো টুর্নামেন্টে নিজের নেতৃত্ব, বল নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচের গতি নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের ভরসা হয়ে ওঠার পুরস্কার পেলেন তিনি।
গোল্ডেন বুট জিতেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। দল শিরোপা জিততে না পারলেও টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন নিজের দখলে রাখেন এই ফরাসি তারকা।
বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভস উঠেছে স্পেনের গোলকিপার সিমনের হাতে। নকআউট পর্বে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের বিশ্বজয়ের পথে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পরিণত ফুটবল উপহার দিয়ে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের (ইয়াং প্লেয়ার) পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের উদীয়মান ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি। অল্প বয়সেই রক্ষণভাগে তাঁর পরিপক্বতা এবং আত্মবিশ্বাস ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে।
বিশ্বকাপের ট্রফি স্পেনের হাতে উঠলেও ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর তালিকা প্রমাণ করে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল একাধিক তারকার উজ্জ্বল হয়ে ওঠার মঞ্চ।
-
ফুটবল1 month agoFIFA WC 2026: ‘এখনই আসল লড়াই’, বিশ্বকাপ শুরুর আগে বার্তা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী ডেনিলসন ডি অলিভেইরার
-
ফুটবল1 month agoFIFA WC 2026: আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আর্জেন্টিনা
-
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট1 month agoজাতীয় দলে বৈভব, পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা; বিস্তারিত জানতে পড়ুন
-
ফুটবল1 month agoFIFA WORLD CUP 2026: আমেরিকায় পৌঁছতেই হেনস্থার মুখোমুখি ইরাকের ফুটবলার, বিস্তারিত জানতে পড়ুন
-
ফুটবল1 month agoFIFA WC 2026: বিশ্বকাপের মঞ্চে বাধা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেলেন না ওমর আব্দুলকাদির
-
ফুটবল1 month ago৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় মেয়েরা
-
ক্রিকেট1 month agoBT20L: অভিষেক ম্যাচেই বাজিমাত! চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ইতিহাস গড়ল নভাস রয়্যালস পুরুলিয়া
-
ফুটবল1 month agoFIFA WC 2026: এক ভুলেই সর্বনাশ কোরিয়ার, নকআউটে জায়গা পাকা মেক্সিকোর
