আন্তর্জাতিক ফুটবল
ACL2: জয় হাতছাড়া, তবু এশিয়ার মঞ্চে লড়াইয়ের নাম ইস্টবেঙ্গল
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: লড়াইয়ের আর এক নাম ইস্টবেঙ্গল। স্কোরবোর্ডে হয়তো শেষ পর্যন্ত লেখা থাকল ২-২। জয় এল না, তিন পয়েন্টও নয়। কিন্তু এশিয়ার মঞ্চে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটে যে লড়াই দেখাল লাল-হলুদ, তার পর বারবার একটা কথাই বলা যায়—ভিনদেশিদের বিরুদ্ধে এই দেশের জবাব এখন ইস্টবেঙ্গলই দিতে পারে। ম্যাচের আগে থেকেই ছিল একাধিক সমস্যা। শরীর খারাপের কারণে দলের সঙ্গে আসতে পারেননি ক্রিস। দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তার উপর আক্রমণভাগেও ছিল ঘাটতি। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিই যেন ইস্টবেঙ্গলের লড়াই করার জেদ আরও বাড়িয়ে দিল।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা গেল ইস্টবেঙ্গলকে। মাত্র ৯ মিনিটেই এল প্রথম সাফল্য। রাশিদের বাড়ানো বল পেয়েছিলেন এডমুন্ড। তাঁর শট সেভ করেন আল হুসেইনের গোলরক্ষক। কিন্তু রিবাউন্ড চলে আসে রামিরেজের সামনে। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি তিনি। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন রামিরেজ। মাঝমাঠ থেকে উঠে এসে শুধু গোল করাই নয়, গোটা প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
তবে গোল হজম করেও চুপ করে বসে থাকেনি আল হুসেইন। ১৬ মিনিটে আরেফ হাইথামের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শট অল্পের জন্য বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ১৮ মিনিটে জিভুলিচের ভুল থেকে বল পেয়ে যান গোগো। তাঁর শট থেকে কর্নার পায় আল হুসেইন। সেই কর্নার থেকে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন ইউসেফ। সামনে কার্যত ফাঁকা গোল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। বল ডিফ্লেক্ট হয়ে আবার কর্নার হয়। দ্বিতীয় কর্নার থেকে ইউসেফের জোরালো হেডার সরাসরি লক্ষ্যে ছিল। কিন্তু গোলের সামনে তখন প্রস্তুত প্রভসুখন গিল। দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক।
বারবার অফসাইড ট্র্যাপে আল হুসেইনের ফুটবলারদের আটকে দিচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল। রক্ষণভাগও নিজেদের জায়গা ধরে রাখার চেষ্টা করছিল। ৩৩ মিনিটে গোগোর দূরপাল্লার শট বাইরে চলে যায়। ৩৭ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন মাহমুদ আলমার্দি। বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া সেই আক্রমণ দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন জিভুলিচ।
তার ঠিক এক মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। জয় গুপ্তার বাড়ানো বল আল হুসেইনের ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে পৌঁছে যায় এডমুন্ডের কাছে। সামনে তখন ফাঁকা গোল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে উড়িয়ে দেন তিনি। সেই মুহূর্তে গোল হয়ে গেলে হয়তো ম্যাচের ছবিটাই অন্যরকম হতে পারত। হয়তো প্রথমার্ধেই তিন গোলের ব্যবধান তৈরি করে ফেলত ইস্টবেঙ্গল।
তবে এডমুন্ডের মিসের পরেও থামেনি লাল-হলুদ। ৪০ মিনিটে আবার রামিরেজ। এবার তাঁর কর্নার থেকে উঠে এলেন আনোয়ার আলি। নিখুঁত হেডারে বল জালে পাঠিয়ে ইস্টবেঙ্গলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আনোয়ার। রামিরেজের পা থেকে প্রথম গোল, তাঁর কর্নার থেকে আনোয়ারের দ্বিতীয় গোল—প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের লড়াইয়ের দুই মুখ হয়ে উঠলেন এই দুজন। রক্ষণ সামলে শুধু নিজের কাজটুকু করেননি আনোয়ার, প্রয়োজনের সময় সামনে উঠে এসে দলকে এনে দিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোল।
দুই গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নামে ইস্টবেঙ্গল। ৪৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির আবেদন করেন আল হুসেইনের আরেফ। কিন্তু রেফারি সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। উল্টে ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়ার অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ৫২ মিনিটে আবার আল হুসেইনের আক্রমণ। একক নৈপুণ্যে সেই আক্রমণ আটকে দেন আনোয়ার আলি। প্রথমার্ধে গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধেও রক্ষণে বুক চিতিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিনি।
৫৫ মিনিটে আসিফ খানের কাছ থেকে বল পেয়েছিলেন রামিরেজ। গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার বল জালে রাখতে পারেননি তিনি। ৫৮ মিনিটে আসিফ খানের জায়গায় মাঠে নামেন বিপিন সিং। ইস্টবেঙ্গল তখনও ব্যবধান ধরে রাখার পাশাপাশি তৃতীয় গোলের সন্ধান করছে।
কিন্তু ৬১ মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসে আল হুসেইন। অধিনায়ক আলমার্দি খারৌবারের মাইনাস থেকে বল পেয়ে গোল করে ব্যবধান কমান। ২-১। ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা। ৬২ মিনিটে বিপিন সিংয়ের শট গোলরক্ষকের হাতে গিয়ে আটকে যায়। ইস্টবেঙ্গলও তখন পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ৬৫ মিনিটে আবার গিল। ইউসেফের জোরালো শট। কিন্তু গোলের সামনে প্রভসুখন গিলের দুর্দান্ত সেভ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গলকে বাঁচিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
৬৭ মিনিটে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করে ইস্টবেঙ্গল। হার্দিক ভাটের জায়গায় আসেন গেহলট, এডমুন্ডের জায়গায় ডেভিড, রামিরেজের জায়গায় রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ এবং জয় গুপ্তার জায়গায় দানু। রামিরেজের রাত তখন শেষ। কিন্তু মাঠ ছাড়ার আগে তিনি রেখে গেলেন দলের হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং আনোয়ারের গোলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্নার। মাঝমাঠে তাঁর লড়াইও ছিল ইস্টবেঙ্গলের প্রথমার্ধের অন্যতম বড় শক্তি।
৭৬ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন জিকশন। সময় তখন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইস্টবেঙ্গল ২-১ এগিয়ে। মনে হচ্ছিল, এত প্রতিকূলতার পরও হয়তো এশিয়ার মঞ্চ থেকে তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরবে লাল-হলুদ। কিন্তু ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি।
৮৮ মিনিটে এল সেই ধাক্কা। অবাইদার ক্রস থেকে গোল করেন আহমেদ আসাফ। ২-২। শেষের দিকে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচে পুরোপুরি ফিরে আসে আল হুসেইন। ইস্টবেঙ্গলের দুই গোলের লিড তখন অতীত। এতক্ষণ বুক দিয়ে আগলে রাখা তিন পয়েন্ট যেন হাতের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তবু শেষ মুহূর্তেও লড়াই থামেনি। ৯৩ মিনিটে আরেফের গোলমুখী শট। সেই বল যদি জালে ঢুকে যেত, তাহলে ম্যাচের ফল আরও ভয়াবহ হতে পারত। কিন্তু আবারও সামনে প্রভসুখন গিল। অসাধারণ সেভে দলকে ম্যাচে রাখলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে গোল হজম না করে অন্তত এক পয়েন্ট নিশ্চিত করলেন গিল।
শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরলাইন ২-২। তিন পয়েন্ট এল না। কিন্তু এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের লড়াইটা থেকে গেল। দলের আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় ফুটবলার নেই, ক্রিস শরীর খারাপের জন্য নেই, একাধিক ফুটবলারের ফিটনেস নিয়েও সমস্যা ছিল। তারপরও আল হুসেইনের বিরুদ্ধে এশিয়ার মঞ্চে এমন ফুটবল খেলল ইস্টবেঙ্গল। রিজার্ভ বেঞ্চ আরেকটু ভালো পারফর্ম করতে পারলে হয়তো ম্যাচটা বেরিয়ে যেতে পারত। এডমুন্ডের সেই ফাঁকা গোলের সুযোগটাও যদি কাজে লাগত, তাহলে হয়তো তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ত লাল-হলুদ।
কিন্তু ফুটবল সবসময় হিসেব মেনে চলে না। কখনও কখনও জয় না পেয়েও একটি দল নিজেদের অন্যভাবে প্রতিষ্ঠা করে। এই ম্যাচে রামিরেজ গোল করে শুরুটা করেছিলেন, আনোয়ার গোল করে লিড বাড়িয়েছিলেন, আর প্রভসুখন গিল শেষ পর্যন্ত গোলের নিচে দাঁড়িয়ে দলকে বাঁচিয়েছেন। বিশেষ করে গিল—আল হুসেইনের একের পর এক আক্রমণের সামনে তাঁর সেভগুলোই ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচে রেখেছে।
ফলাফল ২-২। এক পয়েন্ট। কিন্তু সেই এক পয়েন্টের পিছনে রয়েছে ৯০ মিনিটের লড়াই, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই, ঘাটতির সঙ্গে লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই। জয় আসেনি, তবু মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয়নি ইস্টবেঙ্গলকে। কারণ এশিয়ার মঞ্চে আবারও লাল-হলুদ বুঝিয়ে দিল—লড়াই করতে হলে নামটা এখনও ইস্টবেঙ্গল।
আন্তর্জাতিক ফুটবল
কারাবাও কাপে আর্সেনাল-লিভারপুলের দাপট, নজর কাড়লেন ১৬ বছরের ডাওম্যান
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে জয় দিয়ে চতুর্থ রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করল আর্সেনাল ও লিভারপুল। ইপসউইচ টাউনকে ৪-২ গোলে হারাল আর্সেনাল। অন্যদিকে টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে পরের রাউন্ডে পৌঁছে গেল লিভারপুল।
পোর্টম্যান রোডে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় আর্সেনাল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া ম্যাক্স ডাওম্যান সপ্তম মিনিটেই দুরন্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এদিন আর্সেনালের হয়ে জোড়া গোল করেন ডাওম্যান। তাঁর সঙ্গে গোলের তালিকায় নাম লেখান ননি মাদুয়েকে ও মিকেল মেরিনো। ফলে একসময় ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিকেল আর্তেতার দল। শেষ দিকে অনিস মেহমেতি ও প্রাক্তন আর্সেনাল ফুটবলার চুবা আকম গোল করলেও ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি ইপসউইচ।
অন্যদিকে অ্যানফিল্ডে টটেনহ্যামকে হারাল লিভারপুল। ২১ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান কোডি গাকপো। তবে ৬৯ মিনিটে গ্যালাঘারের গোলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে টটেনহ্যাম। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ২৫ গজ দূর থেকে দুরন্ত শটে গোল করে লিভারপুলের জয় নিশ্চিত করেন ডমিনিক সোবোস্লাই।
আইএসএল
ম্যাকলারেনের সেই সেভ থেকে ব্রাজিলের সামনে, গিলের নতুন যাত্রা; অকপট প্রবসুখন সিং গিল
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ২০২৩ সাল থেকে গোলপোস্টের নিচে পাহারায় প্রভসুখন সিংহ গিল। লাল-হলুদ জার্সিতে ইতিমধ্যেই ৯০টি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে তাঁর। ক্লাবে এটি তাঁর চতুর্থ মরসুম। এই সময়ের মধ্যে তিনটি বড় ঘরোয়া ট্রফি জিতেছেন গিল—২০২৩-২৪ সুপার কাপ, ২০২৫-২৬ আইএসএল এবং ২০২৬-এর ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ। এর পাশাপাশি ২০২৩ ডুরান্ড কাপ, ২০২৫ আইএফএ শিল্ড ও ২০২৫ সুপার কাপে রানার্স হয়ে রুপোর পদকও পেয়েছেন তিনি।জুনে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আরও দু’মরসুমের চুক্তি বাড়িয়েছেন পঞ্জাবের এই গোলরক্ষক। এবার এসেছে জাতীয় দলের ডাকও। পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে আসন্ন আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে ভারতীয় দলে রয়েছেন গিল। ২০১৭ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে খেলেছেন, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অধিনায়কও ছিলেন। তবে এখনও সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়নি তাঁর। ২০২১-২২ আইএসএলের গোল্ডেন গ্লাভ জয়ী গিল এ বার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া।জর্ডনে আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের যাত্রার কথা বলেন তিনি।
ইস্টবেঙ্গলে নিজের যাত্রা নিয়ে গিল বলেন, “আমার যাত্রাটা অসাধারণ। দল হিসেবে অনেক ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। প্রথম মরসুমটা মিশ্র অভিজ্ঞতার ছিল। ২০২৩ ডুরান্ডের ফাইনালে হেরেছিলাম, আইএসএলেও শুরুটা খারাপ হয়েছিল। কিন্তু সুপার কাপ জিতে ১২ বছর পর ক্লাবকে জাতীয় ট্রফি জিতিয়েছিলাম এবং এএফসি প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিলাম।”
পরের মরসুমের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। “দীর্ঘ জয়হীন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তবু আমরা একসঙ্গে থেকেছি। আইএসএলে অল্পের জন্য সেরা ছয়ে ঢুকতে পারিনি। সেই অভিজ্ঞতাই ২০২৫-২৬ মরসুমে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ভাল করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আইএফএ শিল্ড ও সুপার কাপের ফাইনালে উঠেছি, শেষে আইএসএল জিতেছি। এ মরসুমেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বে উঠেছি এবং ডুরান্ড কাপ জিতেছি।”
২০২৫-২৬ আইএসএলের ডার্বিতে জেমি ম্যাকলারেনের বিরুদ্ধে তাঁর সেই অতিরিক্ত সময়ের সেভ এখনও গিলের কাছে বিশেষ। তাঁর কথায়, “ওটা পুরোপুরি ইনস্টিংক্ট থেকে হয়েছিল। একমাত্র লক্ষ্য ছিল বলটা আটকানো। পরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে বুঝেছিলাম, আইএসএল জয়ে ওই অবদানের গুরুত্ব কতটা। অনেকে আমাকে সেই মুহূর্তটা পায়ে ট্যাটু করাতে বলেছিলেন। প্রথমে রাজি ছিলাম না, কিন্তু মা জোর করায় করিয়েছি। এই ট্যাটুই আমার একমাত্র ট্যাটু থাকবে, কারণ মুহূর্তটা অসাধারণ ছিল। অনেকে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের সেভের সঙ্গে তুলনা করেন—এটা আমার কাছে বিরাট প্রশংসা।”
ডুরান্ড কাপে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে পেনাল্টি সেভ নিয়েও তাঁর বক্তব্য, “ইস্টবেঙ্গলে আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি প্রতিযোগিতা জেতা। প্রথম ম্যাচে ডার্বিতে হারলেও, যেখানে দু’দলেরই প্রস্তুতি প্রায় ছিল না, আমরা পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ছিলাম এবং ফাইনালে আধিপত্য দেখিয়েছি। এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে এবং পরে টাইব্রেকারে পেনাল্টি বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি এটাকে কর্তব্য হিসেবেই দেখি। শেষ রক্ষাকর্তা হিসেবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে বাঁচানোই আমার কাজ।”
সমর্থকদের নিয়ে গিল বলেন, “বড় ক্লাবের হয়ে খেলার জন্যই এমন মুহূর্তের অপেক্ষা থাকে—ট্রফি জেতার জন্য। সমর্থকদের মুখে হাসি দেখলে আরও পরিশ্রম করতে ইচ্ছে করে। প্রতিটি অনুশীলনে সেরাটা দেওয়ার তাগিদ তৈরি হয়।”
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু নিয়েও আত্মবিশ্বাসী গিল। “আমরা খুব শক্তিশালী দল। বেশির ভাগ ফুটবলার বহু বছর ধরে একসঙ্গে খেলছি, তাই বোঝাপড়া অসাধারণ। জুলাই থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছি। হাবাসের কোচিংয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে নিজেদের সেরাটা দেব। সমর্থক এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”
শেষে জাতীয় দলের ডাক প্রসঙ্গে গিলের বার্তা, “পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলির জন্য জাতীয় দলে ডাক পাওয়া বিরাট সম্মানের। ক্লাবের হয়ে সব সময় সেরাটা দিয়েছি। এ বার জাতীয় দলের হয়েও সেই পারফরম্যান্স করতে চাই। এটা বিশাল সুযোগ এবং আমি এর পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে চাই।”
আন্তর্জাতিক ফুটবল
ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে রোমাঞ্চিত থাপা
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক : সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের FIFA আন্তর্জাতিক উইন্ডো ভারতের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বিশেষ অনিরুদ্ধ থাপার জন্য। প্রায় দু’বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন ২৮ বছরের এই মিডফিল্ডার। শেষ বার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে মরিশাসের বিরুদ্ধে ভারতের জার্সিতে খেলেছিলেন তিনি। এ বার দেশের মাটিতে এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ফেরার অপেক্ষায় থাপা।
২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে পানামার বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ৬ অক্টোবর দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত।
এই দুই ম্যাচ নিয়ে উচ্ছ্বসিত থাপা। তিনি বলেন, “সবাই জানে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ওদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। একজন ফুটবলার হিসেবে ভারতের মাটিতে, দেশের সমর্থকদের সামনে ওদের বিরুদ্ধে খেলা আমার কাছে জীবনে একবার পাওয়া সুযোগ। আমি দেশের হয়ে খেলতে, নিজেকে পরীক্ষা করতে এবং দল হিসেবে আমরা কতটা ভালো, সেটা দেখতে মুখিয়ে রয়েছি। ওদের বিরুদ্ধে খেলে আমরা অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারি।”
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা তিন দলের বিরুদ্ধে নামার সুযোগ ভারতীয় শিবিরে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে মাঠে নামার পর সেই উত্তেজনা সরিয়ে নিজেদের খেলায় মন দিতে চান থাপা। তাঁর কথায়, “এই ম্যাচগুলি নিয়ে আমরা যখন কথা বলি, তখন রোমাঞ্চ হয়। বিশেষ করে দেশের মাটিতে এই দলগুলির বিরুদ্ধে খেলার কথা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। কিন্তু মাঠে নামার পর বিষয়টা ১১ জন বনাম ১১ জন। আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং সেরা ফুটবল খেলতে হবে।”
মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামলাতে গিয়ে শৃঙ্খলা ও সংযমকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন থাপা। তিনি বলেন, “আমাদের মোটিভেটেড থাকতে হবে, একই সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধও হতে হবে। দল হিসেবে শান্ত ও সংগঠিত থাকতে হবে এবং ৯০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এই দলগুলি আমাদের উপর চাপ তৈরি করবে। আমরা যদি ভুল কম করতে পারি, সেটাই ইতিবাচক হবে। মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওদের মান, ছোট জায়গায় খেলা এবং দ্রুত বল সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ।”
নিজেদের সংগঠন ও দলগত পারফরম্যান্সেই জোর থাপার। তিনি বলেন, “দুই দলেরই অসাধারণ মান রয়েছে। আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকে একসঙ্গে খেলতে হবে এবং দেশের জার্সির জন্য লড়াই করতে হবে। আমরা ঘরের মাঠে, সমর্থকদের সামনে খেলব। তাই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।”
শুধু ম্যাচের ফল নয়, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন থাপা। তাঁর কথায়, “৯০ মিনিটে আমরা কী করি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ম্যাচের পর আমরা কী শিখলাম, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে এই ধরনের দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ আমরা খুব বেশি পাই না।”
শেষে সমর্থকদের মাঠে এসে পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে থাপা বলেন, “এই মানের দলগুলি ভারতে এসে ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে। সমর্থকদের জন্যও এটা বিরল সুযোগ। আপনারা মাঠে আসুন, বরাবরের মতো আমাদের সমর্থন করুন। আমরা দেশের জন্য নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
-
ফুটবল3 months agoFIFA WC 2026: ‘এখনই আসল লড়াই’, বিশ্বকাপ শুরুর আগে বার্তা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী ডেনিলসন ডি অলিভেইরার
-
ফুটবল3 months agoFIFA WC 2026: আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আর্জেন্টিনা
-
ফুটবল3 months agoFIFA WORLD CUP 2026: আমেরিকায় পৌঁছতেই হেনস্থার মুখোমুখি ইরাকের ফুটবলার, বিস্তারিত জানতে পড়ুন
-
ফুটবল3 months agoFIFA WC 2026: এক ভুলেই সর্বনাশ কোরিয়ার, নকআউটে জায়গা পাকা মেক্সিকোর
-
ফুটবল3 months ago৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় মেয়েরা
-
ফুটবল2 months agoমোহনবাগানে ‘মিজো ফ্ল্যাশ’ ছাংতে
-
আইএসএল1 month agoব্রাজিল ম্যাচের পর আইএসএল, সম্ভাব্য শুরু ১৫ অক্টোবর
-
ফুটবল3 months agoFIFA WC 2026: জার্মান ঝড়ে বিধ্বস্ত কুরাকাও, ৭-১ গোলের বিশাল জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের
