Connect with us

ফুটবল

FIFA WC 2026: “আমরা নিজেদের ফুটবল খেলব”—চাপ নয়, আত্মবিশ্বাসই অস্ত্র লিওনেল স্কালোনির

Published

on

সৌরভ রায়, মিয়ামি: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর। সাংবাদিক বৈঠকে দলের প্রধান কোচ বলেন, প্রতিপক্ষকে যথাযোগ্য সম্মান জানিয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে কোনো ফুটবলারের শারীরিক অবস্থা বা একাদশ নিয়ে আগাম মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন। তাঁর কথায়, “ম্যাচ কীভাবে এগোবে, তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে। তাই এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়।”

দলের প্রধান স্ট্রাইকারের গোল না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কোচ। তিনি বলেন, “স্ট্রাইকারের কাজ গোল করা ঠিকই, কিন্তু দল সুযোগ তৈরি করছে, জয় পাচ্ছে—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গোল শুধু একজনের নয়, গোটা দলের দায়িত্ব।”

বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অতিরিক্ত একটি নকআউট ম্যাচ খেলতে হচ্ছে ঠিকই, তবে শিরোপা জিততে গেলে কঠিন পথ পেরোতেই হবে। একই সঙ্গে তিনি চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো এবং কলম্বিয়ার প্রশংসা করে বলেন, “এই দলগুলিই শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।”

সমর্থকদের সমর্থন নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি বলেন, “দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। খেলোয়াড়রা শুধু দেশের জার্সি পরে মাঠে নামে না, তারা কোটি মানুষের স্বপ্নও বহন করে। সেই ভালোবাসাই আমাদের অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা দেয়।”

ইতালির বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা প্রসঙ্গে এক ইতালীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইতালির ফুটবলের নিজস্ব ঐতিহ্য, কৌশল ও সংস্কৃতিকে কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। “প্রত্যেক দেশের ফুটবলের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। ইতালি যদি সেই পরিচয় ধরে রাখতে পারে, তবে তারা আবারও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হবে,” মন্তব্য তাঁর।

মিয়ামির প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দুপুরের ম্যাচ আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কোচ স্বীকার করেন, রাতের ম্যাচ হলে খেলোয়াড়দের জন্য সুবিধা হতো। তবে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি দুই দলের জন্যই একই। সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ নয়, মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও বিতর্ক সম্পর্কে কোচের মন্তব্য, “আজকের দিনে যে কেউ কিছু লিখলেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু আমরা এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমাদের সমস্ত মনোযোগ মাঠের খেলাতেই।”

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের আগে এই সাংবাদিক সম্মেলনে আর্জেন্টিনা শিবিরের বার্তা ছিল স্পষ্ট—চাপ নয়, আত্মবিশ্বাস, দলগত ফুটবল এবং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই সাফল্যের চাবিকাঠি।

ফুটবল

FIFA WC 2026: কেউই খেলতে চায় না’— তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশঁর

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার (ভারতীয় সময় ভোররাতে) মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই চমকে দেওয়া মন্তব্য করলেন ফ্রান্সের বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, এই ম্যাচ খেলতে ফ্রান্স যেমন আগ্রহী নয়, তেমনই ইংল্যান্ডও নয়। তবু জাতীয় দলের দায়িত্ববোধ থেকেই মাঠে নেমে জয়ের লক্ষ্যে খেলবে তাঁর দল।
স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ০-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছে ফ্রান্সের। সেই হতাশার আবহেই সাংবাদিক বৈঠকে দেশঁ বলেন, “এটা কোনও প্রীতি ম্যাচ নয়। এটা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। আমাদের কর্তব্য শেষ পর্যন্ত পালন করতে হবে। ইংল্যান্ডও এই ম্যাচ খেলতে চায় না, আমরাও চাই না। কিন্তু এই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আমাদের খেলতেই হবে।”
১৪ বছরের দীর্ঘ অধ্যায় শেষে ফ্রান্সের কোচের পদ ছাড়ছেন দেশঁ। তাই নিজের শেষ ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি। দেশঁর কথায়, “ফ্রান্সের জার্সি গায়ে চাপালেই দায়িত্ববোধ চলে আসে। আমি চাই, আমরা তৃতীয় স্থান অর্জন করে এই অভিযান শেষ করি। এটা আমার শেষ ম্যাচ, তবে আমি চাই না বিদায়ের মুহূর্তটা কান্নায় ভরে উঠুক। জীবন এগিয়ে চলবে।”
দেশঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে কারওই ভালো লাগে না। তবু দলের সকলেই বিদায়ী কোচকে জয় উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। কোনাতে বলেন, “দেশঁ আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাঁর শেষ ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে চাই এবং ব্রোঞ্জ জিতে তাঁকে সম্মান জানাতে চাই।”
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গের পর এই ম্যাচ দুই দলের কাছেই হতাশার হলেও, ব্রোঞ্জ পদক জয়ের লড়াইয়ে মর্যাদার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।

Continue Reading

ফুটবল

FIFA WC 2026: ইয়ামালের প্রশংসায় মেসি, তবে ফাইনালে ছাড় নয় স্পেনকে…

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে অকপট প্রশংসা করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, ফাইনালে ইয়ামালকে থামাতে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।
এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইয়ামালের খেলা অনুসরণ করছেন এবং সবসময় তার সাফল্য কামনা করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
মেসির ভাষায়, “ইয়ামালের সামনে অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার পড়ে রয়েছে। ইতিহাস গড়ার বড় সুযোগও তার সামনে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, অন্তত এবার যেন সেটা না হয়।”
প্রতিপক্ষ হলেও ইয়ামালের প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই। তার খেলা দেখাটা সত্যিই দারুণ অনুভূতি।”
তবে প্রশংসার পাশাপাশি ফাইনালের লড়াই নিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন মেসি। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব যেন ইয়ামাল তার সেরা খেলাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা সহজ হবে না।”
মেসি মনে করেন, স্পেনকে শুধু একজন খেলোয়াড়ের দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার কথায়, “স্পেন শুধু ইয়ামালকে নিয়েই নয়। তাদের দলে আরও অনেক অসাধারণ ফুটবলার রয়েছে। দলগত ফুটবলও তারা অসাধারণ খেলে। তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি রয়েছে।”
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসির এই মন্তব্যে যেমন উঠে এসেছে তরুণ প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা, তেমনি ফুটে উঠেছে শিরোপা ধরে রাখার জন্য আর্জেন্টিনার দৃঢ় প্রত্যয়ও। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালের মহারণে অভিজ্ঞ মেসির আর্জেন্টিনা জয়ী হয়, নাকি ইতিহাস গড়ে নতুন প্রজন্মের তারকা লামিন ইয়ামালের স্পেন।

Continue Reading

ফুটবল

FIFA WC 2026: বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্য দ্বৈরথ

Published

on

রে স্পোর্টজের প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই সেরা দুই দলের লড়াই। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির সংঘর্ষ নয়, এটি এক শিক্ষক ও তাঁর প্রাক্তন ছাত্রেরও আবেগঘন পুনর্মিলন। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

২০১৭ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের লাস রোসাস কোচিং সেন্টারে প্রো-লাইসেন্স কোর্স করার সময় দে লা ফুয়েন্তের অধীনেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন স্কালোনি। সেই সময় শিক্ষক হিসেবে হাতে-কলমে আধুনিক ফুটবলের নানা দিক শিখিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ। প্রায় এক দশক পর ভাগ্যের পরিহাসে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার একে অপরের প্রতিপক্ষ তাঁরা।

দুই কোচের পথচলা অবশ্য ছিল ভিন্ন। ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ব্যর্থতার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে অনেক প্রশ্ন উঠলেও সময়ই প্রমাণ করেছে তাঁর সামর্থ্য। তাঁর হাত ধরেই ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলির দায়িত্বে অসাধারণ কাজ করেন দে লা ফুয়েন্তে। অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ ও অলিম্পিক দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি। তাঁর অধীনে স্পেন জেতে উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ফাইনালে পৌঁছেছে লা রোহা।

স্কালোনি একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, কোচিং জীবনের শুরুতে দে লা ফুয়েন্তের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে দে লা ফুয়েন্তেও বারবার প্রশংসা করেছেন তাঁর প্রাক্তন ছাত্রের। এমনকি স্কালোনিকে তিনি “মাস্টার” বলেও উল্লেখ করেছেন, যা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে বিরল সম্মান।

ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছিলেন, তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই খেলতে চেয়েছিলেন। কারণ, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের হাতে গড়ে তোলা এক ছাত্রের বিপক্ষে লড়াই করার সুযোগ জীবনে খুব কমই আসে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্রফির লড়াইয়ের আড়ালে তাই আরেকটি গল্পও সমানভাবে আলোচনায়—মাদ্রিদের এক শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক, যা এবার পৌঁছে গেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুধু দুই দেশের নয়, দুই প্রজন্মের দুই সফল কোচের দর্শন ও কৌশলেরও এক ঐতিহাসিক লড়াই দেখবে ফুটবল বিশ্ব।

Continue Reading

Trending