Connect with us

ফুটবল

FIFA WC 2026: বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্য দ্বৈরথ

Published

on

রে স্পোর্টজের প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই সেরা দুই দলের লড়াই। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির সংঘর্ষ নয়, এটি এক শিক্ষক ও তাঁর প্রাক্তন ছাত্রেরও আবেগঘন পুনর্মিলন। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

২০১৭ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের লাস রোসাস কোচিং সেন্টারে প্রো-লাইসেন্স কোর্স করার সময় দে লা ফুয়েন্তের অধীনেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন স্কালোনি। সেই সময় শিক্ষক হিসেবে হাতে-কলমে আধুনিক ফুটবলের নানা দিক শিখিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ। প্রায় এক দশক পর ভাগ্যের পরিহাসে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার একে অপরের প্রতিপক্ষ তাঁরা।

দুই কোচের পথচলা অবশ্য ছিল ভিন্ন। ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ব্যর্থতার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে অনেক প্রশ্ন উঠলেও সময়ই প্রমাণ করেছে তাঁর সামর্থ্য। তাঁর হাত ধরেই ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলির দায়িত্বে অসাধারণ কাজ করেন দে লা ফুয়েন্তে। অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ ও অলিম্পিক দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি। তাঁর অধীনে স্পেন জেতে উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ফাইনালে পৌঁছেছে লা রোহা।

স্কালোনি একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, কোচিং জীবনের শুরুতে দে লা ফুয়েন্তের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে দে লা ফুয়েন্তেও বারবার প্রশংসা করেছেন তাঁর প্রাক্তন ছাত্রের। এমনকি স্কালোনিকে তিনি “মাস্টার” বলেও উল্লেখ করেছেন, যা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে বিরল সম্মান।

ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছিলেন, তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই খেলতে চেয়েছিলেন। কারণ, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের হাতে গড়ে তোলা এক ছাত্রের বিপক্ষে লড়াই করার সুযোগ জীবনে খুব কমই আসে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্রফির লড়াইয়ের আড়ালে তাই আরেকটি গল্পও সমানভাবে আলোচনায়—মাদ্রিদের এক শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক, যা এবার পৌঁছে গেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুধু দুই দেশের নয়, দুই প্রজন্মের দুই সফল কোচের দর্শন ও কৌশলেরও এক ঐতিহাসিক লড়াই দেখবে ফুটবল বিশ্ব।

আইএসএল

ম্যাকলারেনের সেই সেভ থেকে ব্রাজিলের সামনে, গিলের নতুন যাত্রা; অকপট প্রবসুখন সিং গিল

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ২০২৩ সাল থেকে গোলপোস্টের নিচে পাহারায় প্রভসুখন সিংহ গিল। লাল-হলুদ জার্সিতে ইতিমধ্যেই ৯০টি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে তাঁর। ক্লাবে এটি তাঁর চতুর্থ মরসুম। এই সময়ের মধ্যে তিনটি বড় ঘরোয়া ট্রফি জিতেছেন গিল—২০২৩-২৪ সুপার কাপ, ২০২৫-২৬ আইএসএল এবং ২০২৬-এর ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ। এর পাশাপাশি ২০২৩ ডুরান্ড কাপ, ২০২৫ আইএফএ শিল্ড ও ২০২৫ সুপার কাপে রানার্স হয়ে রুপোর পদকও পেয়েছেন তিনি।জুনে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আরও দু’মরসুমের চুক্তি বাড়িয়েছেন পঞ্জাবের এই গোলরক্ষক। এবার এসেছে জাতীয় দলের ডাকও। পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে আসন্ন আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে ভারতীয় দলে রয়েছেন গিল। ২০১৭ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে খেলেছেন, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অধিনায়কও ছিলেন। তবে এখনও সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়নি তাঁর। ২০২১-২২ আইএসএলের গোল্ডেন গ্লাভ জয়ী গিল এ বার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া।জর্ডনে আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের যাত্রার কথা বলেন তিনি।

ইস্টবেঙ্গলে নিজের যাত্রা নিয়ে গিল বলেন, “আমার যাত্রাটা অসাধারণ। দল হিসেবে অনেক ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। প্রথম মরসুমটা মিশ্র অভিজ্ঞতার ছিল। ২০২৩ ডুরান্ডের ফাইনালে হেরেছিলাম, আইএসএলেও শুরুটা খারাপ হয়েছিল। কিন্তু সুপার কাপ জিতে ১২ বছর পর ক্লাবকে জাতীয় ট্রফি জিতিয়েছিলাম এবং এএফসি প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিলাম।”

পরের মরসুমের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। “দীর্ঘ জয়হীন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তবু আমরা একসঙ্গে থেকেছি। আইএসএলে অল্পের জন্য সেরা ছয়ে ঢুকতে পারিনি। সেই অভিজ্ঞতাই ২০২৫-২৬ মরসুমে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ভাল করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আইএফএ শিল্ড ও সুপার কাপের ফাইনালে উঠেছি, শেষে আইএসএল জিতেছি। এ মরসুমেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বে উঠেছি এবং ডুরান্ড কাপ জিতেছি।”

২০২৫-২৬ আইএসএলের ডার্বিতে জেমি ম্যাকলারেনের বিরুদ্ধে তাঁর সেই অতিরিক্ত সময়ের সেভ এখনও গিলের কাছে বিশেষ। তাঁর কথায়, “ওটা পুরোপুরি ইনস্টিংক্ট থেকে হয়েছিল। একমাত্র লক্ষ্য ছিল বলটা আটকানো। পরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে বুঝেছিলাম, আইএসএল জয়ে ওই অবদানের গুরুত্ব কতটা। অনেকে আমাকে সেই মুহূর্তটা পায়ে ট্যাটু করাতে বলেছিলেন। প্রথমে রাজি ছিলাম না, কিন্তু মা জোর করায় করিয়েছি। এই ট্যাটুই আমার একমাত্র ট্যাটু থাকবে, কারণ মুহূর্তটা অসাধারণ ছিল। অনেকে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের সেভের সঙ্গে তুলনা করেন—এটা আমার কাছে বিরাট প্রশংসা।”

ডুরান্ড কাপে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে পেনাল্টি সেভ নিয়েও তাঁর বক্তব্য, “ইস্টবেঙ্গলে আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি প্রতিযোগিতা জেতা। প্রথম ম্যাচে ডার্বিতে হারলেও, যেখানে দু’দলেরই প্রস্তুতি প্রায় ছিল না, আমরা পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ছিলাম এবং ফাইনালে আধিপত্য দেখিয়েছি। এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে এবং পরে টাইব্রেকারে পেনাল্টি বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি এটাকে কর্তব্য হিসেবেই দেখি। শেষ রক্ষাকর্তা হিসেবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে বাঁচানোই আমার কাজ।”

সমর্থকদের নিয়ে গিল বলেন, “বড় ক্লাবের হয়ে খেলার জন্যই এমন মুহূর্তের অপেক্ষা থাকে—ট্রফি জেতার জন্য। সমর্থকদের মুখে হাসি দেখলে আরও পরিশ্রম করতে ইচ্ছে করে। প্রতিটি অনুশীলনে সেরাটা দেওয়ার তাগিদ তৈরি হয়।”

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু নিয়েও আত্মবিশ্বাসী গিল। “আমরা খুব শক্তিশালী দল। বেশির ভাগ ফুটবলার বহু বছর ধরে একসঙ্গে খেলছি, তাই বোঝাপড়া অসাধারণ। জুলাই থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছি। হাবাসের কোচিংয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে নিজেদের সেরাটা দেব। সমর্থক এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”

শেষে জাতীয় দলের ডাক প্রসঙ্গে গিলের বার্তা, “পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলির জন্য জাতীয় দলে ডাক পাওয়া বিরাট সম্মানের। ক্লাবের হয়ে সব সময় সেরাটা দিয়েছি। এ বার জাতীয় দলের হয়েও সেই পারফরম্যান্স করতে চাই। এটা বিশাল সুযোগ এবং আমি এর পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে চাই।”

Continue Reading

আন্তর্জাতিক ফুটবল

ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে রোমাঞ্চিত থাপা

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক : সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের FIFA আন্তর্জাতিক উইন্ডো ভারতের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বিশেষ অনিরুদ্ধ থাপার জন্য। প্রায় দু’বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন ২৮ বছরের এই মিডফিল্ডার। শেষ বার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে মরিশাসের বিরুদ্ধে ভারতের জার্সিতে খেলেছিলেন তিনি। এ বার দেশের মাটিতে এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ফেরার অপেক্ষায় থাপা।

২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে পানামার বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ৬ অক্টোবর দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত।

এই দুই ম্যাচ নিয়ে উচ্ছ্বসিত থাপা। তিনি বলেন, “সবাই জানে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ওদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। একজন ফুটবলার হিসেবে ভারতের মাটিতে, দেশের সমর্থকদের সামনে ওদের বিরুদ্ধে খেলা আমার কাছে জীবনে একবার পাওয়া সুযোগ। আমি দেশের হয়ে খেলতে, নিজেকে পরীক্ষা করতে এবং দল হিসেবে আমরা কতটা ভালো, সেটা দেখতে মুখিয়ে রয়েছি। ওদের বিরুদ্ধে খেলে আমরা অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারি।”

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা তিন দলের বিরুদ্ধে নামার সুযোগ ভারতীয় শিবিরে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে মাঠে নামার পর সেই উত্তেজনা সরিয়ে নিজেদের খেলায় মন দিতে চান থাপা। তাঁর কথায়, “এই ম্যাচগুলি নিয়ে আমরা যখন কথা বলি, তখন রোমাঞ্চ হয়। বিশেষ করে দেশের মাটিতে এই দলগুলির বিরুদ্ধে খেলার কথা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। কিন্তু মাঠে নামার পর বিষয়টা ১১ জন বনাম ১১ জন। আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং সেরা ফুটবল খেলতে হবে।”

মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামলাতে গিয়ে শৃঙ্খলা ও সংযমকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন থাপা। তিনি বলেন, “আমাদের মোটিভেটেড থাকতে হবে, একই সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধও হতে হবে। দল হিসেবে শান্ত ও সংগঠিত থাকতে হবে এবং ৯০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এই দলগুলি আমাদের উপর চাপ তৈরি করবে। আমরা যদি ভুল কম করতে পারি, সেটাই ইতিবাচক হবে। মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওদের মান, ছোট জায়গায় খেলা এবং দ্রুত বল সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ।”

নিজেদের সংগঠন ও দলগত পারফরম্যান্সেই জোর থাপার। তিনি বলেন, “দুই দলেরই অসাধারণ মান রয়েছে। আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকে একসঙ্গে খেলতে হবে এবং দেশের জার্সির জন্য লড়াই করতে হবে। আমরা ঘরের মাঠে, সমর্থকদের সামনে খেলব। তাই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।”

শুধু ম্যাচের ফল নয়, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন থাপা। তাঁর কথায়, “৯০ মিনিটে আমরা কী করি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ম্যাচের পর আমরা কী শিখলাম, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে এই ধরনের দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ আমরা খুব বেশি পাই না।”

শেষে সমর্থকদের মাঠে এসে পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে থাপা বলেন, “এই মানের দলগুলি ভারতে এসে ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে। সমর্থকদের জন্যও এটা বিরল সুযোগ। আপনারা মাঠে আসুন, বরাবরের মতো আমাদের সমর্থন করুন। আমরা দেশের জন্য নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”

Continue Reading

ফুটবল

CFL 2026: পাঁচ গোলে কোল ইন্ডিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল মোহনবাগান

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের শুরুতেই গোলের বন্যা। কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বার্তা দিল মোহনবাগান। বড় ম্যাচের পর একাদশে একাধিক বদল এনেও আক্রমণের ধার এতটুকু কমেনি সবুজ-মেরুনের। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। যদিও বিরতির পর গতি ও ফিটনেসে কিছুটা অভাব দেখা যায়, যার সুযোগে একটি গোল পরিশোধ করে কোল ইন্ডিয়া।

শুরুটা অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। প্রথম ১৫ মিনিট সংগঠিত রক্ষণে মোহনবাগানের আক্রমণ আটকে রাখে কোল ইন্ডিয়া। কিন্তু ২১ মিনিটে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন মনবীর সিং। সাহাল আব্দুল সামাদের নিখুঁত পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সবুজ-মেরুনকে। ৩৪ মিনিটে সাহাল নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তার তিন মিনিট পরই সন্দীপ মালিকের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে মোহনবাগান। ৩৮ মিনিটে কিয়ান নাসিরির গোলে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৪-০। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আসে পঞ্চম গোল। বক্সের মধ্যে মনবীরকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে প্রথমার্ধেই কোল ইন্ডিয়ার লড়াই কার্যত শেষ করে দেন মনবীর।

বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের চেহারা কিছুটা বদলায়। হ্যাটট্রিকের হাতছানি থাকলেও একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর। ৭৪ মিনিটে সন্দীপের পাস থেকে সায়ন ব্যানার্জির শট আটকে দেন কোল ইন্ডিয়ার গোলরক্ষক সঞ্জয় কুমার। ফিরতি বলেও গোল করতে ব্যর্থ হন মনবীর। এর কিছুক্ষণ পর কোল ইন্ডিয়ার পাল্টা আক্রমণে নিজেদের বক্সে হাতে বল লাগিয়ে বসেন রাজ বাসফোর। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান ইরফান সরদার। শেষ দিকে আর কোনও বিপদ হতে দেয়নি মোহনবাগান। ৫-১ গোলের জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের অভিযান শুরু করে স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

Continue Reading

Trending