ইস্টবেঙ্গল
আরএফডিএল ডার্বিতে লাল-হলুদের দাপুটে জয়
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট লিগের ডার্বির রং লাল-হলুদ। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে জোড়া গোল করে নৈহাটির বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামে নায়ক হলেন মনিপুরের ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে আসা রিকি সিং। এই ম্যাচে চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ২-০ গোলে হারাল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত রিকি বলে গেলেন, আরও ভালো খেলতে চান ভবিষ্যতে।
প্রসঙ্গত এই ম্যাচে নামার আগেই দুই দল পরের পর্বে চলে গেলেও লড়াই ছিল মূলত প্রথম স্থান অধিকারের। আর তাতেই মোহনবাগানকে টেক্কা দিল ইস্টবেঙ্গল।ম্যাচের শুরুর দিকে বেশ কিছু আক্রমণ তুলে আনে মোহনবাগান। ৭ মিনিটের মাথায় নিগমার পাস থেকে সুহেল আহমেদ ভাট ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারলেই এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। ১৮ মিনিটে প্রায় একাই ইস্টবেঙ্গল বক্সে ঢুকে পড়েন সুহেল, তবে তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর পরে আস্তে আস্তে নিজেদের মেলে ধরতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। ২১ মিনিটে গুইতের শট থেকে গোল আসতেই পারত লাল-হলুদের। তবে শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ করেই ড্রেসিংরুমে ফেরে দুই দল। প্রথমার্ধের শেষের দিকে মোহনবাগান প্লেয়ার টনসিং ইস্টবেঙ্গলের রিকিকে ফাউল করার ফলে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও রেফারি শক্ত হাতে সেই পরিস্থিতি সামলান।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের বয়স তখন ৪২ মিনিট। মোহনবাগানের বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার গুরনাজ। তিনি বল মেরে বসেন রিকির পায়ে। রিফ্লেকশনে সেই বল জড়িয়ে যায় মোহনবাগান গোলে। এগিয়ে যায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। এরপরে কার্যত ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার জুলফিকার গাজির হাতে আটকে যায় মোহনবাগান। একের পর এক গোলমুখী বল দুরন্তভাবে প্রতিহত করে জুলফিকার।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে রেফারির সঙ্গে তর্কাতর্কি করে ম্যাচের প্রথম ও একমাত্র রেড কার্ড দেখেন গুইতে ভেনলালপেকা। ইস্টবেঙ্গলকে ১০ জনে পেয়ে অল আউট আক্রমণ করতে উঠে আসে মোহনবাগান, আর তাতেই রক্ষণে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগের প্লেয়াররা। সুযোগ হাতছাড়া করেনি লাল-হলুদ বাহিনী। ম্যাচের ৯২ মিনিটে দেবজিতের শট প্রিয়ান্স দুবে বাঁচিয়ে দিলে ফিরতি বল জালে জড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলের জয় নিশ্চিত করে রিকি সিং।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মোহনবাগান কোচ ডেগি কার্ডোজো। ম্যাচ হারার প্রায় সব দোষ চাপান আয়োজক সংস্থার উপর। তিনি বলেন,” পরপর ম্যাচের জন্য ধকল বাড়ছে প্লেয়ারদের, তাই ওরা মাঠে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারছে না। বাড়ছে চোট-আঘাত। এভাবে খেলার মান উন্নত হতে পারে না।” এই কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন ইস্টবেঙ্গল সহকারী কোচ অর্চিস্মান বিশ্বাস। তবে তিনি বলেন,”ডার্বি তারাই জিতবে যারা নিজেদের স্নায়ুর চাপ সামলে খেলতে পারবে। রিকি আজ ম্যাচের রঙ বদলে দিয়েছে।”
