অন্যান্য খেলা
অস্ট্রেলিয়ার আয়রনম্যান ৭০.৩-এ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন কলকাতার সৌম্যদীপ সরকার
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: কলকাতার উদীয়মান এন্ডিউরেন্স অ্যাথলিট সৌম্যদীপ সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অপেশাদার ক্রীড়াজগতে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন। পেশায় বস্টন সায়েন্টিফিকে কর্মরত এক মেডিক্যাল ডিভাইসেস সেলস প্রফেশনাল এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট সৌম্যদীপ একই সঙ্গে সামলাচ্ছেন পেশাগত দায়িত্ব ও কঠোর ক্রীড়া অনুশীলন।
বিশ্বের অন্যতম কঠিন এন্ডিউরেন্স প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত আয়রনম্যান ট্রায়াথলনে টানা তিনটি ইভেন্ট—সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—কোনও বিরতি ছাড়াই সম্পন্ন করতে হয়। আয়রনম্যান ৭০.৩ ফরম্যাটে প্রতিযোগীদের সাঁতার কাটতে হয় ১.৯ কিলোমিটার, সাইক্লিং করতে হয় ৯০ কিলোমিটার এবং শেষে দৌড়াতে হয় ২১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন। সৌম্যদীপ এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং আগামী ২২ মার্চ ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান ৭০.৩ গিলং ইভেন্টে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁর মতে, ওই প্রতিযোগিতায় ভারত থেকে প্রায় পাঁচজন অ্যাথলিট অংশ নেবেন।
মাত্র নয় মাস আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দৌড়জগতে পথচলা শুরু করেন সৌম্যদীপ। ইতিমধ্যেই এক বছরের মধ্যে তিনি সম্পন্ন করেছেন প্রায় ৮২০টি রান। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অর্জন করেছেন ভারতের ম্যারাথন দৌড়ের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি—প্রোক্যাম স্ল্যাম ফিনিশার মেডেল। এই মেডেল পেতে হলে বেঙ্গালুরুতে টিসিএস ওয়ার্ল্ড ১০কে, দিল্লি হাফ ম্যারাথন, টিসিএস কলকাতা ২৫কে এবং টাটা মুম্বাই ম্যারাথনের ৪২ কিলোমিটার পূর্ণ ম্যারাথন—এই চারটি বড় আন্তর্জাতিক মানের দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। সৌম্যদীপ সফলভাবে এই চারটি ইভেন্টেই অংশগ্রহণ করে সম্মান অর্জন করেছেন।
দৌড়ের পাশাপাশি সাইক্লিংয়েও তাঁর কৃতিত্ব নজরকাড়া। সিএনজি সিরিজে তিনি সম্পন্ন করেছেন ২৫ মাইল, ৫০ মাইল (দু’বার) ও ১০০ মাইলের আল্ট্রা সাইক্লিং চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও অডাক্স সাইক্লিংয়ের অধীনে ২০০ কিলোমিটার বিআরএম সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি সুপার র্যান্ডনিয়র (এসআর) খেতাবের দিকে এগিয়ে চলেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে সিঙ্গাপুর ম্যারাথনে অংশগ্রহণও।
খ্যাতনামা এন্ডিউরেন্স অ্যাকাডেমি ই-স্প্রিন্টে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সৌম্যদীপ। প্রধান প্রশিক্ষক অভিনন্দনের তত্ত্বাবধানে কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ তাঁর সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের যাত্রাপথ সম্পর্কে সৌম্যদীপ বলেন, “এন্ডিউরেন্স স্পোর্টস শুধু শরীরের নয়, মানসিক দৃঢ়তারও বড় পরীক্ষা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন আর আত্মবিশ্বাসই সাফল্যের চাবিকাঠি।”
আগামী দিনে আন্তর্জাতিক আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ, সুপার র্যান্ডনিয়র খেতাব অর্জন এবং পূর্ণ আয়রনম্যান ইভেন্টে নামার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
নিজের সাফল্যের মাধ্যমে কর্মরত পেশাজীবী ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের এন্ডিউরেন্স স্পোর্টসকে জীবনধারার অংশ করে নেওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে চান সৌম্যদীপ সরকার। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও যে আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াসাফল্য সম্ভব—তা প্রমাণ করেই চলেছেন তিনি।
অদম্য মানসিকতা ও দ্রুত বাড়তে থাকা সাফল্যের তালিকা নিয়ে সৌম্যদীপ সরকার এখন ভারতের নতুন প্রজন্মের এন্ডিউরেন্স অ্যাথলিটদের উজ্জ্বল মুখ হয়ে উঠছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
