আইএসএল
ম্যাকলারেনের সেই সেভ থেকে ব্রাজিলের সামনে, গিলের নতুন যাত্রা; অকপট প্রবসুখন সিং গিল
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ২০২৩ সাল থেকে গোলপোস্টের নিচে পাহারায় প্রভসুখন সিংহ গিল। লাল-হলুদ জার্সিতে ইতিমধ্যেই ৯০টি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে তাঁর। ক্লাবে এটি তাঁর চতুর্থ মরসুম। এই সময়ের মধ্যে তিনটি বড় ঘরোয়া ট্রফি জিতেছেন গিল—২০২৩-২৪ সুপার কাপ, ২০২৫-২৬ আইএসএল এবং ২০২৬-এর ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ। এর পাশাপাশি ২০২৩ ডুরান্ড কাপ, ২০২৫ আইএফএ শিল্ড ও ২০২৫ সুপার কাপে রানার্স হয়ে রুপোর পদকও পেয়েছেন তিনি।জুনে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আরও দু’মরসুমের চুক্তি বাড়িয়েছেন পঞ্জাবের এই গোলরক্ষক। এবার এসেছে জাতীয় দলের ডাকও। পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে আসন্ন আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে ভারতীয় দলে রয়েছেন গিল। ২০১৭ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে খেলেছেন, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অধিনায়কও ছিলেন। তবে এখনও সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়নি তাঁর। ২০২১-২২ আইএসএলের গোল্ডেন গ্লাভ জয়ী গিল এ বার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া।জর্ডনে আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের যাত্রার কথা বলেন তিনি।
ইস্টবেঙ্গলে নিজের যাত্রা নিয়ে গিল বলেন, “আমার যাত্রাটা অসাধারণ। দল হিসেবে অনেক ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। প্রথম মরসুমটা মিশ্র অভিজ্ঞতার ছিল। ২০২৩ ডুরান্ডের ফাইনালে হেরেছিলাম, আইএসএলেও শুরুটা খারাপ হয়েছিল। কিন্তু সুপার কাপ জিতে ১২ বছর পর ক্লাবকে জাতীয় ট্রফি জিতিয়েছিলাম এবং এএফসি প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিলাম।”
পরের মরসুমের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। “দীর্ঘ জয়হীন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তবু আমরা একসঙ্গে থেকেছি। আইএসএলে অল্পের জন্য সেরা ছয়ে ঢুকতে পারিনি। সেই অভিজ্ঞতাই ২০২৫-২৬ মরসুমে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ভাল করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আইএফএ শিল্ড ও সুপার কাপের ফাইনালে উঠেছি, শেষে আইএসএল জিতেছি। এ মরসুমেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বে উঠেছি এবং ডুরান্ড কাপ জিতেছি।”
২০২৫-২৬ আইএসএলের ডার্বিতে জেমি ম্যাকলারেনের বিরুদ্ধে তাঁর সেই অতিরিক্ত সময়ের সেভ এখনও গিলের কাছে বিশেষ। তাঁর কথায়, “ওটা পুরোপুরি ইনস্টিংক্ট থেকে হয়েছিল। একমাত্র লক্ষ্য ছিল বলটা আটকানো। পরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে বুঝেছিলাম, আইএসএল জয়ে ওই অবদানের গুরুত্ব কতটা। অনেকে আমাকে সেই মুহূর্তটা পায়ে ট্যাটু করাতে বলেছিলেন। প্রথমে রাজি ছিলাম না, কিন্তু মা জোর করায় করিয়েছি। এই ট্যাটুই আমার একমাত্র ট্যাটু থাকবে, কারণ মুহূর্তটা অসাধারণ ছিল। অনেকে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের সেভের সঙ্গে তুলনা করেন—এটা আমার কাছে বিরাট প্রশংসা।”
ডুরান্ড কাপে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে পেনাল্টি সেভ নিয়েও তাঁর বক্তব্য, “ইস্টবেঙ্গলে আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি প্রতিযোগিতা জেতা। প্রথম ম্যাচে ডার্বিতে হারলেও, যেখানে দু’দলেরই প্রস্তুতি প্রায় ছিল না, আমরা পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ছিলাম এবং ফাইনালে আধিপত্য দেখিয়েছি। এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে এবং পরে টাইব্রেকারে পেনাল্টি বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি এটাকে কর্তব্য হিসেবেই দেখি। শেষ রক্ষাকর্তা হিসেবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে বাঁচানোই আমার কাজ।”
সমর্থকদের নিয়ে গিল বলেন, “বড় ক্লাবের হয়ে খেলার জন্যই এমন মুহূর্তের অপেক্ষা থাকে—ট্রফি জেতার জন্য। সমর্থকদের মুখে হাসি দেখলে আরও পরিশ্রম করতে ইচ্ছে করে। প্রতিটি অনুশীলনে সেরাটা দেওয়ার তাগিদ তৈরি হয়।”
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু নিয়েও আত্মবিশ্বাসী গিল। “আমরা খুব শক্তিশালী দল। বেশির ভাগ ফুটবলার বহু বছর ধরে একসঙ্গে খেলছি, তাই বোঝাপড়া অসাধারণ। জুলাই থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছি। হাবাসের কোচিংয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে নিজেদের সেরাটা দেব। সমর্থক এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”
শেষে জাতীয় দলের ডাক প্রসঙ্গে গিলের বার্তা, “পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলির জন্য জাতীয় দলে ডাক পাওয়া বিরাট সম্মানের। ক্লাবের হয়ে সব সময় সেরাটা দিয়েছি। এ বার জাতীয় দলের হয়েও সেই পারফরম্যান্স করতে চাই। এটা বিশাল সুযোগ এবং আমি এর পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে চাই।”
