ফুটবল

CFL 2026: নতুন কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিসকে জয় উপহার দিল মোহনবাগান…

Published

on

রে স্পোর্টজের প্রতিবেদন: নতুন হেড কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিসের সামনে জয়ের হাসি ফিরল মোহনবাগান শিবিরে। দীর্ঘক্ষণ কালীঘাটের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হলেও শেষ ১৬ মিনিটে তিন গোল করে দাপুটে জয়ে মাঠ ছাড়ল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। রবিবার মোহনবাগান মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে কালীঘাটকে হারিয়ে কলকাতা লিগে আবারও জয়ের সরণীতে ফিরল মোহনবাগান।
রবিবারের বিকেলে মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরির মাঝেই ছুটির দিনের সুযোগে গ্যালারি ভরিয়ে দেন বাগান সমর্থকেরা। আর সেই ম্যাচেই প্রথমবার মাঠে উপস্থিত থেকে দলের খেলা খুঁটিয়ে দেখলেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া গ্রিক কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস। সকালে কলকাতায় পৌঁছেই তিনি সরাসরি চলে আসেন মোহনবাগান মাঠে। তাঁর নির্দেশেই কলকাতা লিগের দলে সুযোগ পান সিনিয়র দলের একাধিক ফুটবলার— বিশাল কাইথ, সাহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা, কিয়ান নাসিরি, সুহেল ভাটরা।
তবে তারকা-সমৃদ্ধ দল নিয়েও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি মোহনবাগান। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল সবুজ-মেরুনদের। কিন্তু কালীঘাটের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয়। সুহেল, কিয়ানদের একাধিক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয় দলকে। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যেতে হয় মোহনবাগানকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কোচ বাস্তব রায়। তিনি একাধিক পরিবর্তন এনে মাঠে নামান লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং ও সন্দীপ মালিককে। সেই পরিবর্তনের ফল মিলতেও বেশি সময় লাগেনি। দুই উইং দিয়ে দ্রুতগতির আক্রমণে কালীঘাটের রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় মোহনবাগান।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে বক্সের ভিতরে সন্দীপ মালিককে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। স্পট-কিক থেকে নির্ভুল শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মনবীর সিং। সেই গোলের পরই আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় সবুজ-মেরুন শিবির। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তন্ময়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে জয়ের সিলমোহর দেন দীপেন্দু বিশ্বাস।
গোল না পেলেও ম্যাচজুড়ে নজর কেড়েছেন সায়ন ব্যানার্জি। দুই প্রান্তে তাঁর অবিরাম দৌড়, আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা এবং রক্ষণে সাহায্য করার মানসিকতা নতুন কোচের নজর কেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নিজের পারফরম্যান্সে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে সুযোগ পেলে দলের ভরসা হতে পারেন।
তবে জয় এলেও দলের ম্যাচ-ফিটনেস নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। সিনিয়র দলের একাধিক ফুটবলারকে এখনও পুরো ছন্দে দেখা যায়নি। ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বি অপেক্ষা করছে। ফলে সময় খুবই কম।
সেই কারণেই গোটা ম্যাচ জুড়ে নোটবুক হাতে প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করেছেন প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস। কোন জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন, কার ভূমিকা কী হবে— সবই খুঁটিয়ে দেখেছেন নতুন কোচ। সোমবার ফুটবলারদের সঙ্গে বৈঠক করে মঙ্গলবার থেকে পূর্ণোদ্যমে অনুশীলন শুরু করবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ডার্বির আগে এই জয় যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াল, তেমনই নতুন কোচের কাছে দলের শক্তি ও দুর্বলতার ছবিটাও অনেকটাই স্পষ্ট করে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version