Connect with us

ফুটবল

FIFA WC 2026: আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আর্জেন্টিনা

Published

on

শুভম মন্ডল, কানসাস সিটি: বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। ভারতীয় সময় বুধবার সকাল ৬.৩০ মিনিটে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল। তার আগে প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি, ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থা এবং বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

স্কালোনি বলেন, “আমরা শান্ত এবং নিজেদের লক্ষ্যে মনোযোগী আছি। এটি কেবলই একটি ফুটবল ম্যাচ। গত বিশ্বকাপ থেকেই আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে যে প্রথম ম্যাচটিই সবকিছু নির্ধারণ করে দেয় না। অবশ্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়েই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। আমরা ভালো অবস্থানে আছি, আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে এবং আমরা দারুণ একটা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।”

নিজের কোচিং যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি প্রথম যেদিন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, আজও ঠিক তেমনই আছি। কেউ সমালোচনা করায় কিংবা কোনো টুর্নামেন্ট জেতার কারণে আমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নিজের দায়বদ্ধতা এবং অনুভূতির দিক থেকে আমি ঠিক আগের মতোই আছি। আসল বিষয় হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। আমরা কারও চেয়ে ভালোও নই, আবার কারও চেয়ে খারাপও নই।”

আর্জেন্টিনা দলের মানসিকতা নিয়ে স্কালোনির মন্তব্য, “আমরা সবসময় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, সেটাই করার চেষ্টা করি এবং কাজগুলো সেরা উপায়ে করতে চাই। আমরা সবসময় একই রকম দায়বদ্ধতা বজায় রাখি এবং জানি যে আমরা কারও চেয়ে সেরা কিংবা কারও চেয়ে পিছিয়ে নই।”

প্রথম একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেই তিনি বলেন, “আমি এখনও খেলোয়াড়দের কাছে মূল একাদশ প্রকাশ করিনি। আজকের বিকেলের অনুশীলনের পর আমি দল ঘোষণা করব। এমিলিয়ানো মার্তিনেস ভালো আছে। সবকিছু যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে আমার মনে হয় সে কাল খেলবে।”

সাংবাদিক মার্টিন পালেরমোর প্রশ্নের উত্তরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্কালোনি। তিনি বলেন, “এটা আমাকে আবেগ তাড়িত করছে, আর দেখো, এটা তোমাকেও আবেগপ্রবণ করে তুলছে। আমি চার মাস মাঠের বাইরে ছিলাম, আর তুমিই ছিলে সেই মানুষদের একজন যে আমার জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিল।”

লিওনেল মেসিকে নিয়ে স্কালোনির মন্তব্য, “লিও সবসময়ই দলে ছিল এবং দলের জন্য সবসময়ই অপরিহার্য। এখন সে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং তাকে বেশ ফুরফুরে ও ফিট দেখাচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, “হুলিয়ান আলভারেজের গোড়ালিতে কিছুটা সমস্যা ছিল, তবে সে পুরোপুরি সেরে উঠেছে এবং আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।”

প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নিতে নারাজ বিশ্বকাপজয়ী কোচ। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয় আমরা খুব ভালো একটা দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। আলজেরিয়া যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে এসেছে। এই টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।”

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না স্কালোনি। তিনি বলেন, “বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া মানেই এই নয় যে আমরা সবকিছু নিশ্চিত করে ফেলেছি। আমাদের একই উদ্যমে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে এবং আমরা যা অর্জন করেছি, তা আবারও প্রমাণ করতে হবে।”

শেষে দলের দর্শন স্পষ্ট করে স্কালোনি বলেন, “কঠিন মুহূর্তে সংকল্প তোমাকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করা। এটাই আজ আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”

ফুটবল

FIFA WC 2026: কেউই খেলতে চায় না’— তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশঁর

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার (ভারতীয় সময় ভোররাতে) মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই চমকে দেওয়া মন্তব্য করলেন ফ্রান্সের বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, এই ম্যাচ খেলতে ফ্রান্স যেমন আগ্রহী নয়, তেমনই ইংল্যান্ডও নয়। তবু জাতীয় দলের দায়িত্ববোধ থেকেই মাঠে নেমে জয়ের লক্ষ্যে খেলবে তাঁর দল।
স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ০-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছে ফ্রান্সের। সেই হতাশার আবহেই সাংবাদিক বৈঠকে দেশঁ বলেন, “এটা কোনও প্রীতি ম্যাচ নয়। এটা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। আমাদের কর্তব্য শেষ পর্যন্ত পালন করতে হবে। ইংল্যান্ডও এই ম্যাচ খেলতে চায় না, আমরাও চাই না। কিন্তু এই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আমাদের খেলতেই হবে।”
১৪ বছরের দীর্ঘ অধ্যায় শেষে ফ্রান্সের কোচের পদ ছাড়ছেন দেশঁ। তাই নিজের শেষ ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি। দেশঁর কথায়, “ফ্রান্সের জার্সি গায়ে চাপালেই দায়িত্ববোধ চলে আসে। আমি চাই, আমরা তৃতীয় স্থান অর্জন করে এই অভিযান শেষ করি। এটা আমার শেষ ম্যাচ, তবে আমি চাই না বিদায়ের মুহূর্তটা কান্নায় ভরে উঠুক। জীবন এগিয়ে চলবে।”
দেশঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে কারওই ভালো লাগে না। তবু দলের সকলেই বিদায়ী কোচকে জয় উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। কোনাতে বলেন, “দেশঁ আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাঁর শেষ ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে চাই এবং ব্রোঞ্জ জিতে তাঁকে সম্মান জানাতে চাই।”
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গের পর এই ম্যাচ দুই দলের কাছেই হতাশার হলেও, ব্রোঞ্জ পদক জয়ের লড়াইয়ে মর্যাদার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।

Continue Reading

ফুটবল

FIFA WC 2026: ইয়ামালের প্রশংসায় মেসি, তবে ফাইনালে ছাড় নয় স্পেনকে…

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে অকপট প্রশংসা করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, ফাইনালে ইয়ামালকে থামাতে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।
এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইয়ামালের খেলা অনুসরণ করছেন এবং সবসময় তার সাফল্য কামনা করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
মেসির ভাষায়, “ইয়ামালের সামনে অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার পড়ে রয়েছে। ইতিহাস গড়ার বড় সুযোগও তার সামনে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, অন্তত এবার যেন সেটা না হয়।”
প্রতিপক্ষ হলেও ইয়ামালের প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই। তার খেলা দেখাটা সত্যিই দারুণ অনুভূতি।”
তবে প্রশংসার পাশাপাশি ফাইনালের লড়াই নিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন মেসি। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব যেন ইয়ামাল তার সেরা খেলাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা সহজ হবে না।”
মেসি মনে করেন, স্পেনকে শুধু একজন খেলোয়াড়ের দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার কথায়, “স্পেন শুধু ইয়ামালকে নিয়েই নয়। তাদের দলে আরও অনেক অসাধারণ ফুটবলার রয়েছে। দলগত ফুটবলও তারা অসাধারণ খেলে। তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি রয়েছে।”
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসির এই মন্তব্যে যেমন উঠে এসেছে তরুণ প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা, তেমনি ফুটে উঠেছে শিরোপা ধরে রাখার জন্য আর্জেন্টিনার দৃঢ় প্রত্যয়ও। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালের মহারণে অভিজ্ঞ মেসির আর্জেন্টিনা জয়ী হয়, নাকি ইতিহাস গড়ে নতুন প্রজন্মের তারকা লামিন ইয়ামালের স্পেন।

Continue Reading

ফুটবল

FIFA WC 2026: বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্য দ্বৈরথ

Published

on

রে স্পোর্টজের প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই সেরা দুই দলের লড়াই। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির সংঘর্ষ নয়, এটি এক শিক্ষক ও তাঁর প্রাক্তন ছাত্রেরও আবেগঘন পুনর্মিলন। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

২০১৭ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের লাস রোসাস কোচিং সেন্টারে প্রো-লাইসেন্স কোর্স করার সময় দে লা ফুয়েন্তের অধীনেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন স্কালোনি। সেই সময় শিক্ষক হিসেবে হাতে-কলমে আধুনিক ফুটবলের নানা দিক শিখিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ। প্রায় এক দশক পর ভাগ্যের পরিহাসে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার একে অপরের প্রতিপক্ষ তাঁরা।

দুই কোচের পথচলা অবশ্য ছিল ভিন্ন। ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ব্যর্থতার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে অনেক প্রশ্ন উঠলেও সময়ই প্রমাণ করেছে তাঁর সামর্থ্য। তাঁর হাত ধরেই ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলির দায়িত্বে অসাধারণ কাজ করেন দে লা ফুয়েন্তে। অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ ও অলিম্পিক দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি। তাঁর অধীনে স্পেন জেতে উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ফাইনালে পৌঁছেছে লা রোহা।

স্কালোনি একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, কোচিং জীবনের শুরুতে দে লা ফুয়েন্তের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে দে লা ফুয়েন্তেও বারবার প্রশংসা করেছেন তাঁর প্রাক্তন ছাত্রের। এমনকি স্কালোনিকে তিনি “মাস্টার” বলেও উল্লেখ করেছেন, যা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে বিরল সম্মান।

ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছিলেন, তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই খেলতে চেয়েছিলেন। কারণ, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের হাতে গড়ে তোলা এক ছাত্রের বিপক্ষে লড়াই করার সুযোগ জীবনে খুব কমই আসে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্রফির লড়াইয়ের আড়ালে তাই আরেকটি গল্পও সমানভাবে আলোচনায়—মাদ্রিদের এক শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক, যা এবার পৌঁছে গেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুধু দুই দেশের নয়, দুই প্রজন্মের দুই সফল কোচের দর্শন ও কৌশলেরও এক ঐতিহাসিক লড়াই দেখবে ফুটবল বিশ্ব।

Continue Reading

Trending