ক্রিকেট

বিশ্বকাপ বয়কট করলে বিপুল ক্ষতি হতে পারে পাকিস্তানের? বিস্তারিত জানতে পড়ুন

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে বাংলাদেশের নাম। একই সাথে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানও। তবে হুমকি দেওয়া যত সহজ আদতে কাজে করা ঠিক ততটাই কঠিন। বিশ্বকাপ বয়কট করলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে পাকিস্তানকেই। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মহসিন নকভির বোর্ড এত বড় ক্ষতি আদৌ সামাল দিতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে রয়েছে যথেষ্ট ধন্দ।

প্রথমত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই ভারতে এসে নিজেদের ম্যাচগুলি খেলতে রাজি হয়নি পাকিস্তান। তাদের দাবি মেনেই হাইব্রিড মডেলের পথে হেঁটেছে আইসিসি। এই মডেল অনুসারে শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচগুলি খেলবে পাকিস্তান। কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করলে নিজেরাই নিজেদের কথার খেলাপ করবে পাক ক্রিকেট বোর্ড। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর কখনো এই ধরনের দাবি করার জায়গায় থাকবে না পাকিস্তান। যেখানে সুচি অনুযায়ী খেলা হবে সেখানে এসেই খেলতে হবে তাদের। দ্বিতীয়ত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে আইসিসির। প্রতি বছর পাকিস্তানকে লভ্যাংশ হিসেবে মোট ৩১৬ কোটি টাকা দেয় বিশ্ব ক্রিকেটে নিয়ামক সংস্থা। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বয়কট করলে এই চুক্তি ভঙ্গ করবে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে তাই হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আইসিসি। শাস্তি হিসেবে এই ৩১৬ কোটি টাকা পাবে না পাকিস্তান এমনটাই জানানো হয়েছে। এর ফলে নিজেদের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয়ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সে দেশের সরকার যেটা ঠিক করবে সেটা মানতে বাধ্য পাক ক্রিকেট বোর্ড। অর্থাৎ সরকারের অনুমতি না পেলে বিশ্বকাপে অংশ নেবেনা পাকিস্তান। কিন্তু এক্ষেত্রে রাজনৈতিক অছিলায় বিশ্বকাপ বয়কট করার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতের আইসিসি প্রতিযোগিতা থেকেও পাকিস্তানকে নির্বাসিত করা হতে পারে। চতুর্থ বিশ্বকাপ বয়কট করলে আগামী দিনে আইসিসি আয়োজিত যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। অন্য দেশগুলি সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আগ্রহ নাও দেখাতে পারে। অর্থাৎ ক্রিকেট জগতে পাকিস্তানের একঘরে হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এছাড়াও পাকিস্তান আরো বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে যদি পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি ক্রিকেটাররা অংশ নিতে অস্বীকার করেন। বিশ্বকাপ বয়কট করলে আইসিসির চাপের মুখে অন্যান্য দেশগুলি তাদের ক্রিকেটারদের পাকিস্তানে খেলার এনওসি নাও দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের সুপার লিগের আকর্ষণ তো কমবেই, পাশাপাশি বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে তাদের।

বিশ্বকাপ বয়কট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালেও এই মুহূর্তে তাই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে দোটানায় রয়েছে পাকিস্তান। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি ভাবাচ্ছে পাক ক্রিকেট বোর্ডকেও। এখন দেখার আগামী দিনে পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version