ক্রিকেট

ছেলের বিশ্বকাপ জয়েও নির্লিপ্ত বাবা, জানালেন সঞ্জুকে ক্রিকেটার বানানোর গল্প; বিস্তারিত জানতে পড়ুন

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: নামিবিয়া ম্যাচের পর বিশ্বকাপ দলের প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। অনেকেই বলেছিলেন এখানেই থেমে যেতে হবে তাকে। অথচ “এভাবেও ফিরে আসা যায় ” কে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি করে দিলেন সেই সঞ্জু স্যামসনই। লিখলেন বিশ্বকাপে ফিরে আসার রূপকথা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মরণ বাঁচন ম্যাচে ভারতের হয়ে তার দুরন্ত পারফরমেন্স বুঝিয়ে দিয়েছিল তিনি থাকতে এসেছেন। কিন্তু তার এই টিকে থাকার লড়াইয়ে সবথেকে বড় কারিগর যে মানুষটা, তিনি রয়ে গেছে নেপথ্যেই। সঞ্জুর বাবা। ছেলের জন্য নিজের স্বপ্নের কেরিয়ার আত্মত্যাগ করতেও যিনি পিছিয়ে আসেননি। আর এবার ছেলে গোটা দেশের স্বপ্নপূরণের নায়ক। সঞ্জুর মধ্যে দিয়েই নিজের স্বপ্নকে আরো একবার ছুঁয়ে দেখলেন স্যামসন বিশ্বনাথ।

দিল্লির হয়ে ১৯৯৩-৯৪ সালে সন্তোষ ট্রফি খেলেছিলেন সঞ্জুর বাবা। ফুটবল খেলে দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন চাকরিতেও। কিন্তু তারপর আর হেড কনস্টেবল এর পরীক্ষায় বসেননি নিজে। এমনকি চাকরি ছেড়েছিলেন ছেলে সঞ্জুকে ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্ন নিয়ে। “আমি বরাবর শচীন এবং দ্রাবিড়ের ভীষণ ভক্ত ছিলাম। আমার ইচ্ছে ছিল ছেলেরা ক্রিকেটার হোক। চাকরি পাওয়ার পর হেড কনস্টেবল এর পরীক্ষা দিলে ছ মাসের ট্রেনিংয়ে যেতে হত। তখন ছেলেদের ক্রিকেট প্রশিক্ষণে ছেদ পড়ত। আমি সেটা চাইনি। এই কারণেই সময়ের আগে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। দিল্লিতে সঞ্জুকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল না। তাই ওদের নিয়ে আমি ফিরে আসি কেরলে। আর সেখানেই আমার দুই ছেলেকে সুযোগ দেওয়া হয়, ওদের যোগ্যতার দেখে” বলেন স্যামসন বিশ্বনাথ।

কেরলে ফিরে পরবর্তীকালে ফুটবল কোচিং শুরু করেন তিনি। সোমবারেও ফুটবল মাঠে খুদে ফুটবলারদের অনুশীলন করাতেই ব্যস্ত ছিলেন যখন জানতে পারলেন বিশ্বকাপ জয়ী ছেলে বাড়ি ফিরছে। ইতিমধ্যেই পাড়ায় শোরগোল পড়ে গেছিল সঞ্জুকে দেখার জন্য। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক সঞ্জু নিজে বড্ড নির্লিপ্ত । ঠিক যেন আর পাঁচটা প্রতিযোগিতা জিতে ঘরে ফিরেছে। বাড়ি ফিরে মায়ের হাতের রান্না খেয়ে আত্মীয়দের সাথে দেখা করেই বেরিয়ে পড়েন দাদার উদ্দেশ্যে। যদিও তার এই স্বভাবটাও পাওয়া তার বাবার থেকেই। “আমরা নিজেরা রঙিন জীবন থেকে অনেকটা দূরে থাকতে ভালোবাসি। সাধারণ জীবনযাপনই আমাদের পছন্দ। সঞ্জু বিশ্বকাপে ম্যান অফ দ্যা সিরিজ হয়েছে তাতে আমি ভীষণ গর্বিত, কিন্তু এটা নিয়ে আলাদা করে মাতামাতি করার কিছু নেই। আমি প্রথম থেকেই জানতাম ওর যোগ্যতা রয়েছে। আজ শুধু সেটাই গোটা বিশ্ব জানল” বলেন তিনি।

এমনকি ছেলে বিশ্বকাপ খেলবে জেনেও মাঠে যাননি নিজে। ফাইনালও দেখেছেন বাড়িতেই। প্রসঙ্গত ভারতের হয়ে ইডেন ম্যাচের পরেও সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে দুরন্ত পারফর্মেন্স করেন সঞ্জু। এই বিশ্বকাপে পাঁচটি ইনিংস খেলে তার করা মোট রান ৩২১। গড় ৮০.২৫, স্ট্রাইক রেট ১৯৯.৩৭। একটি বিশ্বকাপ মরশুমে সর্বাধিক রান করার রেকর্ডে বিরাট কোহলিকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন সঞ্জু। আইসিটির এবারের বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় উঠে আসা আটজন ক্রিকেটারের মধ্যে একমাত্র ভারতীয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version