ক্রিকেট
ভারতীয় দলের স্থিতিশীলতার বড় ভরসা সূর্য, মনে করিয়ে দিলেন তাঁর ছোটবেলার কোচ অশোক আশওয়ালকার…
সায়ন প্রামানিক: ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে বিএআরসি ক্রিকেট একাডেমিতে এসেছিলেন সূর্যকুমার যাদব। বয়স তখন মাত্র ১০। সেখান থেকেই শুরু তাঁর ক্রিকেটযাত্রা। রে স্পোর্টজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সূর্যের ছোটবেলার কোচ অশোক আশওয়ালকার ফিরে দেখলেন সেই প্রথম দিনের স্মৃতি।
তিনি বলেন, “দু’বছরের মধ্যেই বুঝে গিয়েছিলাম, এই বয়সেই ওর হিটিং পাওয়ার আলাদা। বলের সঙ্গে ব্যাটের সংযোগটা ছিল একেবারে পরিষ্কার।”
মাঠেই নাকি সারাদিন পড়ে থাকতেন সূর্য। বাড়ি ফিরতে চাইতেন না। সেই আগ্রহ দেখেই তাঁকে বাড়তি সময় দিতেন কোচ। তিন বছরের মধ্যেই অনূর্ধ্ব–১৪ দলে সুযোগ পেয়ে যান সূর্য। তারপর অনূর্ধ্ব–১৬ দলে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক সুযোগ এসেছে, আর সেগুলো কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
সূর্যের ‘মিস্টার ৩৬০’ হয়ে ওঠার প্রসঙ্গে অশোক বলেন, “আমার একাডেমিতে ক্রিকেট বুকের বাইরের শট খেলতে দিতাম না। সূর্যও প্রথম থেকেই এমন ছিল না। আগে সোজা ব্যাটে খেলা শিখেছে। বেসিক ঠিক থাকলে পরে নতুন শট খেলতে সমস্যা হয় না। এখনও ওর ক্রিকেটীয় শটগুলো নিখুঁত।”
আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ওপেন করার সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন তিনি। “ও আমাকে ফোন করে বলেছিল, রোহিত শর্মা চার নম্বরে খেলতে চায়, আমাকে ওপেন করতে বলছে। আমি কী করব? আমি বলেছিলাম, দলের প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। ওপেন করতে ভয় পেলে দলে জায়গা থাকবে না। বড় খেলোয়াড় হতে গেলে দায়িত্ব নিতে শিখতে হয়।” এরপর কী হয়েছিল তা সকলেরই জানা—ওপেন করেই নিজের সেরা ছন্দে ফিরে আসে সূর্য।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচে সূর্যের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। “সবাই চার-ছক্কা দেখতে চায়। কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইনিংসকে স্থিরতা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচে সূর্য আর তিলক সেটাই করেছে। তাতে অন্য ব্যাটারদের কাজ সহজ হয়েছে।”
শেষে আশাবাদী অশোক বলেন, “দল এখন ভাল ছন্দে আছে। এই ধারাটা বজায় রাখলে ফাইনালে ওঠা সম্ভব। আশা করি, ছেলেরা জিতেই ফিরবে।”
