ক্রিকেট

ICC T20 WORLD CUP: সবরমতীর তীরে কিউয়িদের বধ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় মেন-ইন ব্লুজদের।

Published

on

সৌরভ রায়,আমেদাবাদ: ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গের রূপকথা ফিরে এসেছিল গত বছরই।কিন্তু ২০২৪-এর সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বিশ্বজয়ের স্বাদ পেল ভারত। রবিবাসরীয় আমেদাবাদ সাক্ষী থাকল এক নয়া ইতিহাসের। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে ধুলিসাৎ করে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলল ‘মেন ইন ব্লুজ ’। বুমরা-অক্ষরদের দাপটে কিউয়ি দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ১৯ ওভারেই।

আমেদাবাদের হাই ভোল্টেজ ফাইনালে ব্যাট করতে নেমে ভারত যে তাণ্ডব শুরু করবে, তা হয়তো কোনো কিউয়ি সমর্থকও কল্পনা করতে পারেননি। শুরুটা করেছিলেন দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ার প্লে-তে তাঁদের ব্যাটে যেন আগুন ঝরছিল। ওপেনিং জুটিতেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৯২ রান। এক সময় মনে হচ্ছিল স্কোরবোর্ড ৩০০ ছুঁয়ে ফেলবে। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ভারত থামল ২৫৫ রানে।

সঞ্জু স্যামসন আপাতত তাঁর কেরিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় কাটাচ্ছেন। ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল নিখুঁত জ্যামিতিতে। কিন্তু আক্ষেপ একটাই, শতরানটা অধরাই রয়ে গেল সঞ্জুর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ৯৭ বা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৯, বারবার তিনি ১০০-র দোরগোড়ায় গিয়েও ফিরতে হয়েছে । অন্যদিকে, বড় ম্যাচের প্লেয়ার হিসেবে নিজেকে ফের চেনালেন অভিষেক শর্মা। ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সেই ইনিংসটা ফ্লুক ছিল না। আজ করলেন ২১ বলে ৫২।

তিনে নেমে ঈশান কিষানও দেখালেন কেন তিনি দলের অপরিহার্য অংশ। বোর্ডের শাস্তির খাঁড়া কাটিয়ে ফেরার পর থেকেই ঈশানের ব্যাটে রানের ক্ষিদে বেড়েছে। আজ করলেন ২৫ বলে ৫৪। শেষের দিকে শিবম দুবের ৮ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ভারতের স্কোরকে নিয়ে যায় পাহাড়-প্রমাণ উচ্চতায়। কিউয়ি বোলারদের মধ্যে জিমি নিশাম ৩ উইকেট নিলেও বাকিরা ভারতীয় ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছেন।

২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটাই ছিল নড়বড়ে। ফিন অ্যালেনকে মাত্র ৯ রানে ফিরিয়ে ধসের শুরুটা করেন অক্ষর প্যাটেল। এরপর রাচিন রবীন্দ্র , গ্লেন ফিলিপস বা মার্ক চ্যাপম্যানরা কেবল ক্রিজে এলেন আর গেলেন। টিম শেইফার্ট ৫২ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বরুণ চক্রবর্তীর বলে ঈশান কিষানের অতিমানবিয় ক্যাচ সেই লড়াইয়ে জল ঢেলে দেয়। শেষে মিচেল স্যান্টনারের ৪৩ রান পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে শুধু।ভারতের বোলিং বিভাগের নায়ক সেই জশপ্রীত বুমরা। এক স্পেলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন তিনি। চার উইকেট নিলেন বুমরা, যার মধ্যে তিনটিই এল ক্লিন বোল্ড করে। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন অক্ষর প্যাটেল ৩ উইকেট নিয়ে। ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই শেষ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের দৌড়।

ভারতীয় ক্রিকেটে এখন শুধুই উৎসবের মেজাজ। আমেদাবাদের আকাশ এখন নীল রঙে রাঙানো, আর কোটি কোটি ভারতবাসীর মনে একটাই সুর— ‘চ্যাম্পিয়ন ইন্ডিয়া’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version