ক্রিকেট
ICC T20 WORLD CUP: পরিজন বিয়োগেও অনড় ঈশান, কাপ জেতালেন দেশকে
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: দেশ আগে না পরিবার? বোধহয় প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই কখনো না কখনো এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই হয়েছে। আর প্রতিবারই নিজেদের কাজের মধ্যে দিয়েই জবাব দিয়েছেন তারা। ঠিক কিছুদিন আগেই মারা গেছিলেন রিংকু সিং এর বাবা। বিশ্বকাপের মাঝপথে তাও দলকে ছেড়ে যাননি রিঙ্কু। শেষকৃত্য করে ফিরে এসে ফের দলের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। আর এবার সেই একই পথে হাঁটলেন আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার ঈশান কিষান। বিশ্বকাপ ফাইনালে ৪৮ ঘন্টা আগে খবর পেয়েছিলেন পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার দিদি এবং জামাইবাবু। তারপরেও ফাইনালে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ঈশান। আর এদিন শুধু খেলেননি, দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন এই তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার।
শুক্রবার পথ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ঈশানের দিদি জামাইবাবু। বাড়ি ফেরার ভাবনাও এসেছিল তার মনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইনালে দলের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এই প্রসঙ্গে তার বাবা জানান, “আমাদের পরিবার একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আমার ছেলে খেলছে অথচ আমি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাওয়ার মত মানসিক অবস্থায় নেই। ও নিজেও ফিরতে চেয়েছিল বাড়ি। কিন্তু দেশ সবার আগে। বিশ্বকাপ ফাইনালে দলের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েই ও শেষ মুহূর্তে থেকে যায়।” সূত্রের খবর অনুশীলনের সদাচনমনে ঈশান ফাইনালের আগে যথেষ্ট মনমরা ছিলেন। এমনকি সতীর্থদের সাথে হাসি মজা করতেও দেখা যাচ্ছিল না তাকে। কিছুটা চিন্তা নিয়েই অনেকে এসে প্রশ্ন করেন এই বিষণ্ণতার কারণ জানতে চেয়ে। যদিও এর রেশ কোনোভাবেই নিজের পারফরম্যান্সে পড়তে দেননি ঈশান। মাঠে নামেন তিন নম্বরে। আর শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন। মাত্র ২৫ বলে তিনি করেন ৫৪ রান। চারটি চার এবং চারটি ছয় দিয়ে সাজানো ছিল তার ফাইনালের ইনিংস। এরপর দুরন্ত ফিল্ডিংয়েরও নমুনা দেখা যায় তার খেলায়। তিনটি অসাধারণ ক্যাচ, টিম সাইফোর্ট, রাচীন রবীন্দ্র এবং ড্যারেল মিশেলকে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে বাধ্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত বিশ্বকাপ চলাকালীনই পিতৃ বিয়োগ হয়েছে রিঙ্কু সিং এর। তারপরেও বাবার শেষকৃত্য করে এসে দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা প্রশংসা কুড়িয়েছে অনেকের থেকেই। আর এদিন সেই একই দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিলেন ঈশান নিজেও। তার বিশ্বকাপ জয় উৎসর্গ করেছেন তিনি নিজের দিদি জামাইবাবুকে।
