সৌরভ মুখার্জী, জামশেদপুর: জেসন কামিন্সের বিশ্বমানের গোলেও মানরক্ষা হল না মোহনবাগানের। আইএসএলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান এবং জামশেদপুর এফসি। ২-১ গোলে হেরে ফাইনালে যাওয়ার কাজ কঠিন করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। প্রায় কুড়ি হাজার সমর্থকের সামনে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলছিল হোসে মোলিনার দল। মাঝমাঠে বলের দখল ছিল না, সেই সঙ্গে রক্ষণে একাধিক ভুলের মাশুল দিতে হল মোহনবাগানকে।
ম্যাচের শুরুতেই নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় জামশেদপুর এফসি। ৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে বক্সের মধ্যে বল বাড়িয়েছিলেন নিখিল ভারলা। সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বলে হাত লাগিয়ে ফেলেন আশিস রাই। অবধারিত পেনাল্টির আবেদন উঠলেও রেফারি তা নস্যাৎ করে দেন। ২৪ মিনিটে সিভেরিওর করা গোলে এগিয়ে যায় জামশেদপুর এফসি। ৩৩ মিনিটের মাথায় সমতায় ফিরতে পারতো মোহনবাগান। আলবার্তোর হেডার ক্রস বারে লেগে প্রতিহত হয়। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল তালুবন্দী করেন আলবিনো গোমস। ৩৭ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে বিশ্বমানের গোল করে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান জেসন কামিন্স। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহুর্তে একটা সুযোগ নষ্ট করেন সাহাল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। অনিরুদ্ধ থাপার পাশ বক্সের মধ্যে পেয়ে গিয়েছিলেন গ্রেগ। কিন্তু গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি। পরের মিনিটেই থাপার গোলমুখী শট রুখে দিয়ে জামশেদপুরের পতন রোধ করেন প্রনয়। ৬৯ মিনিটের মাথায় আরও একটা সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। সাহাল আব্দুল সামাদের সেন্টারে পা ছোঁয়াতে পারলেই গোল পেতে পারতেন শুভাশিস। ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে জেমি ম্যাকলারেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতসকে নামিয়ে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় মোহনবাগান। অপরদিকে, ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে জামশেদপুর এফসি। ম্যাচের সংযোজিত সময়ে জাভি ফার্নান্ডেজের করা গোলে ঘরের মাঠে জয় নিশ্চিত করে জামশেদপুর। প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কলকাতায় খেলতে যাবেন খালিদ জামিলরা।