আন্তর্জাতিক ফুটবল
আর্জেন্টিনার হয়ে আর মাঠে নামবেন না লিওনেল মেসি
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত সত্যিই নেমে এল সেই দিন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়টি অবশ্য রূপকথার মতো হল না। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ০-১ গোলে হেরে রানার্স হয় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচই জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হয়ে রইল। ফাইনালের দু’দিন পরই অবসরের বার্তা লিখেছিলেন মেসি। তবে বাবার মৃত্যুর পর সেই বার্তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ২০৭টি ম্যাচ এবং করেছেন ১২৫টি গোল—দুটিই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। দীর্ঘ সময় ট্রফির খরা তাঁকে তাড়া করলেও শেষ পর্যন্ত সেই আক্ষেপ মুছে যায়। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে ফের কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের উত্তরাধিকারকে পূর্ণতা দেন মেসি।
বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপ জয় বদলে দিয়েছিল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের গল্প। যে ফুটবলারকে একসময় দেশের হয়ে সাফল্য না পাওয়ার জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল, তিনিই পরে আর্জেন্টিনার অন্যতম সর্বকালের সেরা নায়ক হয়ে ওঠেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর নাম চিরস্থায়ী হয়ে যায় আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে।
অবসরের বার্তায় মেসি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলা তাঁর কাছে সবসময় গর্বের বিষয় ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জার্সির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সামনে এগিয়ে আসার সময় হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে মেসির ফুটবলজীবন এখানেই শেষ হচ্ছে না। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন তিনি এবং ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় রয়েছে। অর্থাৎ ফুটবলপ্রেমীরা এখনও ক্লাবের জার্সিতে দেখতে পাবেন তাঁদের প্রিয় ‘এলএম১০’-কে।
একসময় যে বিদায় ছিল আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত সেই বিদায় এল বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে। মারাদোনার ছায়া পেরিয়ে নিজের আলাদা সিংহাসন তৈরি করে মেসি বিদায় নিলেন আর্জেন্টিনার জার্সি থেকে। তাঁর পায়ে আর জাতীয় দলের হয়ে বল গড়াবে না—কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তাঁর অধ্যায় থেকে যাবে চিরকাল।
