ফুটবল

FIFA WC 2026: দেশঁর সোনালি অধ্যায়েও অপূর্ণতার আক্ষেপ

Published

on

রে স্পোর্টজের প্রতিবেদন: সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। গতবারের রানার্সআপদের কাছে এখন লক্ষ্য তৃতীয় স্থান অর্জন করা। বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁ-এর হাত ধরে সাফল্যের শেষ নির্যাসটুকু বের করে নিতে চান কিলিয়ান এমবাপে, দেম্বেলেরা। ফুটবল ইতিহাসে দিদিয়ের দেশঁর নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন, কোচ হিসেবেও ফ্রান্সকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ। এমন কৃতিত্ব মাত্র তিনজনের। ১৪ বছরের দায়িত্বে তিনি ফ্রান্সকে তিনটি টানা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছেন—২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন, ২০২২ সালে রানার্স-আপ এবং ২০২৬ সালে শেষ চার। পরিসংখ্যান বলছে, তিনিই ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। তবু তাঁর বিদায়বেলায় একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই অসাধারণ প্রতিভাবান প্রজন্মকে নিয়ে দেশঁ কি আরও বেশি কিছু জিততে পারতেন?

দেশঁর হাতে ছিল কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে, চুয়ামেনি, সালিবা, এন’গোলো কান্তের মতো তারকায় ভরা দল। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন শক্তিশালী স্কোয়াড গত এক দশকে খুব কম দেশই পেয়েছে। অথচ সাফল্যের ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি ফ্রান্স। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইউরো কাপের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার, ইউরো ২০২০-তে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও বিদায় এবং ইউরো ২০২৪-এ সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হার। ব্যর্থতার এই অধ্যায়গুলো দেশঁর ক্যারিয়ারে প্রশ্নচিহ্ন হয়েই থেকে যাবে। আক্রমণভাগে এত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও দলকে অনেক সময় অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ও নিষ্প্রভ মনে হয়েছে।

অবশ্য দেশঁর পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০১০ বিশ্বকাপের পর বিতর্কে বিধ্বস্ত ফ্রান্সের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দিদিয়ের দেশঁ। গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের চোট, বিশ্বকাপের মাঝে মায়ের মৃত্যু, এমন সব প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি দলকে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন। দেশঁ-এর আমলে পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের বিদায় এসেছে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের কাছেই।স্পেন যে চলতি বিশ্বকাপের সবথেকে শক্তিশালী দল তা বলাই যায়। সেমিফাইনালে হারের পর ফ্রান্সের ফুটবলে দেশঁ যুগের অবসান হতে চলেছে। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে জিনেদিন জিদানের আসা এখন প্রায় নিশ্চিত। দেশঁ নিঃসন্দেহে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা কোচ। তবে এমবাপেদের এই সোনালি প্রজন্মকে সামনে রেখে তাঁর অধ্যায় হয়তো আরও উউজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারত। সেটাই হয়তো দেশঁর সাফল্যের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version