রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। তবে শুধু ক্রিকেটেই নয়। এই একই ঘটনা ঘটছে ফুটবল বিশ্বকাপেও। উঠছে বয়কটের ডাক। আমেরিকায় খেলতে যেতে চাইছে না, মোট তিনটি দেশ। নেপথ্যে মূল কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক নীতি।
আর মাত্র কয়েক মাস পরেই শুরু হতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১১ই জুন থেকে শুরু করে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি খেলা হবে কানাডা মেক্সিকো এবং আমেরিকায়। মোট ১১৪ টি ম্যাচের মধ্যে ৭৪ টি হবে আমেরিকায়। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক নীতির কারণে সেই দেশে প্রবেশ করতে গেলেই সীমান্তে মুখোমুখি হতে হয় একাধিক হেনস্থার। এক দশক আগে ফিফার ‘স্বাধীন পরিচালন কমিটি’-র চেয়ারম্যান ছিলেন মার্ক পিয়েত। সুইজারল্যান্ডের এই আইনজীবী এ বার ডাক তুলেছেন আমেরিকায় বিশ্বকাপ বয়কটের। ফিফার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট শেপ ব্লাটার সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তার এই বয়কটের দাবিকে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় মিনিয়াপলিসে গুলির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে এক মার্কিন নাগরিকের। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ট্রাম্প। সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান, হাইতি প্রভৃতি দেশগুলি রয়েছে এই তালিকায়। ফলে এই দেশগুলি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে অথচ তাদের কোন সমর্থক আমেরিকায় আদৌ প্রবেশাধিকার পাবে কিনা সেই বিষয়ে রয়েছে জল্পনা। অন্যদিকে গ্রীনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা চালিয়েছেন ট্রাম্প। অথচ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডেনমার্কের সঙ্গে আমেরিকার ঘোর বিরোধিতা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপ বয়কটের দাবিও জানিয়েছে তারা। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সুরে সুর মিলিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছে জার্মানিও। এই দাবিতে তারা পাশে পেয়েছেন নেদারল্যান্ডসকে। সেই দেশের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ একটি পিটিশন সই করেছেন, যেখানে জোরালোভাবে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা বলা হয়েছে। মূলত আমেরিকায় অভিবাসীদের উপর হওয়া একাধিক অত্যাচার এবং নিগ্রহের প্রতিবাদস্বরূপ এই বয়কটের ডাক উঠেছে। যদিও ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে খুবই খাতির রয়েছে ট্রাম্পের। অনেকেরই অভিযোগ সেই কারণেই আমেরিকার ম্যাচগুলিতে টিকিটের আকাশছোঁয়ার দামও রাখা হয়েছে। অথচ এখনো ফিফা এই বিষয়ে মুখ খোলেনি। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের আগে একাধিক দেশের এই বয়কটের ডাক জোরালো হতে থাকলে চাপের মুখে পড়বে ফিফা। সেক্ষেত্রে ফুটবল বিশ্বকাপ কোন নতুন মোড় নেবে এখন তাই দেখার।
