ফুটবল
FIFA WC 2026: মানজাম্বি-ভার্গাসের দাপটে জয় সুইসদের
রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: ম্যাচের ৭৪ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য। মনে হচ্ছিল শক্ত লড়াইয়ের শেষে হয়তো মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। কিন্তু শেষ ১৬ মিনিটে যেন জমে থাকা সব রোমাঞ্চ একসঙ্গে উজাড় করে দিল সুইজারল্যান্ড। যোগ করা সময়সহ শেষ মুহূর্তে চার গোলের ঝড় তুলে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিল মুরাত ইয়াকিনের দল।
বিশ্বকাপের ২৬তম ম্যাচে বৃহস্পতিবার রাতে বসনিয়াকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে সুইসরা। এক পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে বসনিয়া। অন্যদিকে একটি করে ম্যাচ খেলে কাতার ও কানাডার ঝুলিতে রয়েছে এক পয়েন্ট।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো আসা বসনিয়া প্রথম ম্যাচে কানাডার সঙ্গে ড্র করেছিল। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও শুরু থেকে দারুণ লড়াই করে সার্গেই বারবারেজের দল।
শুরুর দিকেই আক্রমণের ঝড় তোলে সুইসরা। ১০ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের নিচু শট পাশের জাল কাঁপায়। ১৩ মিনিটে গ্রানিত জাকার রক্ষণচেরা পাস থেকে ড্যান রিডারের বাড়ানো বলে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন এনদোয়ে। এরপরও একাধিক আক্রমণে বসনিয়ার রক্ষণ ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন তিনি। ২৩ মিনিটে রেমো ফ্রয়লারের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে যায়।
৩২ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় বসনিয়া। তরুণ আলাজবেগোভিচের পাস থেকে এডিন জেকো বল পেলেও তাঁর বাড়ানো পাস কাজে লাগানোর মতো কেউ ছিলেন না। ৪০ মিনিটে জেকোর নিশ্চিত শট শেষ মুহূর্তে ব্লক করেন ম্যানুয়েল আকাঞ্জি। চার মিনিট পর কোলাসিনাচ ও আলাজবেগোভিচের আক্রমণও সামলে নেয় সুইস রক্ষণ।
বিরতির পর ৫১ মিনিটে আকাঞ্জির লম্বা পাস ধরে এনদোয়ে গোলের সামনে পৌঁছে গেলেও গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজ দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান। ৬৯ মিনিটে দেদিচের বাঁকানো শট রুখে দেন সুইস গোলরক্ষক।
অবশেষে ৭৪ মিনিটে বদলি দুই খেলোয়াড়ের যুগলবন্দিতে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। রুবেন ভার্গাসের বাড়ানো বলে দুর্দান্ত ভলিতে জাল খুঁজে নেন জোহান মানজাম্বি। ৮৫ মিনিটে এমবোলোর পাস থেকে কোণাকুণি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভার্গাস।
৯০ মিনিটে আবারও ভার্গাসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মানজাম্বি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এরমিন মাহমিচ ব্যবধান কমালেও চার মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে ৪-১ ব্যবধান নিশ্চিত করেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তির হাসি সুইস শিবিরে। দেরিতে জ্বলে ওঠা সুইজারল্যান্ড দেখিয়ে দিল, সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করতে তারা এক মুহূর্তও সময় নেয় না।
