আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

T20 World Cup 2026: বিপুল আর্থিক ক্ষতি ভাবাচ্ছে আইসিসিকে

Published

on

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র আর কয়েক দিন। অথচ তার আগেই বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বিশ্বকাপকে। রবিবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ম্যাচ খেলবে না তারা। আর পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পরেই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে শুধুমাত্র যে আইসিসি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে তেমন নয়, এর ধাক্কা পড়বে খোদ পাক ক্রিকেট বোর্ডের উপরও।

সূত্রের খবর, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে মোট ৪,৫০০ কোটি টাকা। স্পনসর, বিজ্ঞাপন, সম্প্রচার স্বত্ব, বিক্রিত টিকিট মূল্য এবং আইনি জুয়া ইত্যাদি সবকিছুকে একত্রিত করলে যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির তালিকা মিলেছে তা বিশ্বকাপের অন্য কোন ম্যাচে দেখা যায় না। মজার কথা হল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বার্ষিক আয়ের তুলনায় এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ গুন বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখোমুখি হবে সম্প্রচারকারী সংস্থা নিজে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের মাঝে একটি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অন্যদিকে বিশ্বকাপের যে কোনও একটি ম্যাচের সম্প্রচারের জন্য আর্থিক মূল্য ধার্য হয় ১৩৮ কোটি টাকা, যা ভারত পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি থাকে। বর্তমানে ২৭,০৭৬ কোটি টাকার বিনিময়ে জিওহটস্টারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে আইসিসি। কিন্তু পাক ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে তারা আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসেছে চুক্তিমূল্য কমানোর জন্য। ফলে বড় আর্থিক সমস্যায় পড়তে চলেছে আইসিসি। কিন্তু এই দায়ভার তারা একা মেনে নেবে না। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকেও এর দায়িত্ব নিতে হবে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতার আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে যে কটি ম্যাচ খেলা হবে সবকটি ধরা থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোন একটি ম্যাচও বয়কট করা হলে তা চুক্তিভঙ্গ হিসেবেই মেনে নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আইসিসি দ্বারা প্রদত্ত লভ্যাংশ বাবদ অর্থ বাতিল করে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা। এছাড়াও জানা গেছে সম্প্রচারকারি সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে। অন্যদিকে, আইসিসির কাছে বার্ষিক ৩২০ কোটি টাকা পায় পাকিস্তান। অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে একটি মাত্র ম্যাচ বয়কট করার কারণে এই টাকার ৯০% পাবে না তারা। এর প্রভাব পড়বে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উপরেও। আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখোমুখি হবে বিসিসিআই। কিন্তু সামনেই রয়েছে আইপিএল। সেক্ষেত্রে এই ক্ষতি পূরণের অনেকটাই জায়গা থাকবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সামনে। অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে প্রায় ১০০ কোটি দর্শক হারাবে আইসিসি। তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন করার ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালাবে তারা। যদিও এখনও পর্যন্ত ম্যাচ বয়কট করার প্রসঙ্গে আইসিসিকে সরকারিভাবে কোনও মেইল করেনি পাক ক্রিকেট বোর্ড। বলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। খুব কম সময়ের মধ্যে এখন তাই সমাধান সূত্র খুঁজে বার করতে হবে আইসিসিকেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version