রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: শুক্রবার নৈহাটি বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামে কালীঘাট এমএসের বিরুদ্ধে লিগের শেষ ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে কালীঘাটকে ৩-১ গোলে হারিয়ে, কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে জায়গা পাকা করে বিনো জর্জের দল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে এদিন গোল পেয়েছেন ডেভিড, গুইতে এবং শ্যামল বেশরা। অপরদিকে কালীঘাট এমএসের হয়ে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন দেবদাথ এস।
৬ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলের সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। ডেভিডের বাড়ানো বল থেকে হেড করে গোল তুলে নিতে ব্যার্থ হন পিভি বিষ্ণু। পরক্ষণেই কর্নার থেকে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ডেভিড লালাহানসাঙ্গা। অপরদিকে ম্যাচের ১০ মিনিটে পরপর কর্নার পায় কালীঘাট এমএস। তবে গোল তুলতে ব্যার্থ হন তারা। ১৫ মিনিটে একটি গোলমুখী শট নেন কালীঘাট এমএস ফুটবলার নাসিরউদ্দিন মোল্লা। তবে সেই শট চলে যায় সোজা গোলরক্ষক দেবজিত মজুমদারের হাতে। ২০ মিনিটে একটি নিস্প্রভ শট নেন বিষ্ণু। ২৫ মিনিটে সেই বিষ্ণুর বাড়ানো বল থেকে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন ডেভিড। অপরদিকে গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কালীঘাট এমএসের ফুটবলাররাও। মাঝে মধ্যে আক্রমণে উঠে আসেন রাজেন ওরাও, ঈশান সাহিলরাও। তবে গোল তুলতে ব্যার্থ হন তারা। ৪৩ মিনিটে বিষ্ণুর বাড়ানো বল থেকে গোল করতে ব্যার্থ হন ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগের ফুটবলাররা। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে এসেও দুই দলই আক্রমণ তুলে আনতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই সাজঘরে ফেরে ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি পরিবর্তন করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ বিনো জর্জ। আমান সিকের জায়গায় তিনি মাঠে আনেন গুইতে পেকাকে। মাঠে নেমেই ৫২ মিনিটে একটি বিশ্বমানের গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন গুইতে। গোলের বলটি বাড়িয়েছিলেন ডেভিড। পরের মিনিটেই আরও একটি গোলের বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই গুইতে পেকা। ৬১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন সায়ন ব্যানার্জী। এদিকে ম্যাচের ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় কালীঘাট এমএস। বক্সের ভেতরে কালীঘাট ফুটবলার রাজেন ওরাওকে ফাউল করে বসেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক দেবজিত মজুমদার। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান দেবদাথ এস। গোল হজম করার পরেই ডেভিড এবং সোনামকে বসিয়ে বিনো মাঠে নিয়ে আসেন এডমুন্ড লালরিনডিকা এবং চাকু মান্ডিকে। অপরদিকে ৭৪ মিনিটে আবারও সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন সায়ন ব্যানার্জী। এদিকে ৮০ মিনিটে কালীঘাট ফুটবলার সমরেশ দাসের একটি শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ৮৭ মিনিটে আবারও গোল পায় ইস্টবেঙ্গল। এবারে অনবদ্য একটি গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন শ্যামল বেসরা। অবশেষে ৩-১ গোলে, কালীঘাট এমএসকে হারিয়ে কলকাতা লিগের প্রথম ছয়ে জায়গা পাকা করে ইস্টবেঙ্গল।