Connect with us

কলম্বোতে ইতিহাস গড়ল ভারত— নারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপা জয়

রে স্পোর্টজ ওয়েব ডেস্ক: কলম্বোর পি সারা ওভালে বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ভারতের নারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল নেপালকে ৭ উইকেটে হারিয়ে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের মর্যাদা বাড়িয়ে দিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ড. হারিনি অমরসূরিয়া, যিনি ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

নেপালের অধিনায়ক বিনিতা পুন দ্রুত উইকেট হারান— মাত্র ৫ রানে তাঁকে ফিরিয়ে দেন ভারতের বি২ বোলার সুনীতা সারাথে। এরপর সারিতা ঘিমিরে (৩৫ বলে ৩৫) ও বিমলা রাই (২৬ বলে ২৬) দলের ইনিংসকে সামলান। অতিরিক্ত থেকে পাওয়া ২৫ রানসহ নেপাল ২০ ওভারে ১১৪/৫— প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়ে।

জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুতেই চাপে পড়ে। অধিনায়ক দীপিকা ও আখ্যাত ব্যাটার অনেখা দেবী দু’জনেই সারিতা ঘিমিরের আগ্রাসী স্পেলের সামনে পরাস্ত হন। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দুই ব্যাটার— বি১ করুণা ও বি৩ ফুলা সারেন। করুণা ২৭ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, আর ফুলা সারেন ৪৪ রান করেন মাত্র ২৭ বলে। বাসন্তী হান্সদার অপরাজিত ১৩ রানে ভর করে ১১৭/৩ স্কোরে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।

ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ভারতের ফুলা সারেন। সিরিজসেরা পুরস্কার পান— • বি১: সুশমা তামাং (নেপাল) • বি২: মনকেশি চৌধুরি (নেপাল) • বি৩: মেহরিন আলি (পাকিস্তান) ভারতীয় প্রতিটি খেলোয়াড়কে ১ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছে চিন্টালস গ্রুপ। ফাইনালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ড. হারিনি অমরসূরিয়া বলেন, খেলোয়াড়রা “সত্যিকারের অনুপ্রেরণা”, এবং তাঁদের সাফল্য দেশগুলোর মধ্যে সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধী নারীদের অগ্রযাত্রার এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, “স্বপ্ন, শৃঙ্খলা ও উদ্দেশ্য যদি একসঙ্গে থাকে, তাহলে নারী ও প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের পথ থামানোর শক্তি পৃথিবীর নেই।”

সিএবিআই চেয়ারম্যান ড. মহান্তেশ জি. কিভাদাসান্নভার দুই দলের প্রশংসা করে বলেন, এই টুর্নামেন্ট নারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্রিকেটের মানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি শ্রীলঙ্কাকে আরও কাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার আবেদনও জানান। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক, ক্রিকেট প্রশাসক, কর্পোরেট প্রতিনিধি এবং বিশ্ব ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের কর্মকর্তারা। ভারতের এই জয় শুধু একটি শিরোপা নয়— এটি দৃঢ়তা, শ্রদ্ধা ও সীমা পেরোনোর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সাফল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য খেলা