রে স্পোর্টজ ওয়েবডেস্ক: ২৫৪ রানের বিশাল লক্ষ্য দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মাত্র ৭ রানে জয় পেল ভারত। টি-২০ সেমিফাইনালের এই নাটকীয় জয়ের নেপথ্যে শুধু ব্যাটসম্যানদের অবদান নয়, বোলারদের দৃঢ়তা ও স্নায়ুচাপ সামলানোর ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ,এমনটাই মনে করছেন দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। ম্যাচ শেষে নিজের ইনিংসের প্রশংসার চেয়ে বেশি করে তিনি তুলে ধরলেন জসপ্রীত বুমরাহর অবদান।এদিনও ভারতের ইনিংসে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সঞ্জু। মাত্র ৪২ বলে ৮৯ রান করে দলের বড় স্কোর গড়ার পিছনে বড় অবদান রাখেন তিনি। সেই ইনিংসের সুবাদেই ম্যাচের সেরা পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতেই। তবে ব্যক্তিগত সম্মান পাওয়ার পরও সঞ্জুর মতে, প্রকৃত নায়ক ছিলেন দলের প্রধান পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সঞ্জু বলেন, “জয় সবসময়ই বিশেষ অনুভূতি দেয়। আগের ম্যাচে আমার ব্যাটিং ছন্দে ছিল, তাই চেষ্টা করেছি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকার লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিলাম। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় নিজের পরিকল্পনা কার্যকর করতে পেরেছি। কিন্তু এই জয়ের আসল কৃতিত্ব বুমরাহর প্রাপ্য। ওর স্পেল না থাকলে আমার ইনিংসের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেত।”বুমরাহকে নিয়ে প্রশংসা করতে গিয়ে সঞ্জু আরও বলেন, “আমার মতে ম্যাচের সেরা বুমরাহই হওয়া উচিত ছিল। ও এমন একজন বোলার, যে প্রজন্মে একবারই আসে। আমরা ২৫০ এর বেশি রান তুলেও ম্যাচটা প্রায় হাতছাড়া করতে বসেছিলাম। কিন্তু ওর চার ওভার পুরো পরিস্থিতিটাই বদলে দিয়েছে।”ম্যাচের শেষ পর্যায়ে বুমরাহর বোলিংই কার্যত ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয়। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তাঁর নিখুঁত লাইন এবং লেন্থ ব্যাটসম্যানদের রানের গতি কমিয়ে দেয়। ১৬তম ওভারে মাত্র ৮ রান দেন তিনি, আর ১৮তম ওভারে খরচ করেন মাত্র ৬ রান। এই দুই ওভারের চাপেই ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডার চাপে পড়ে যায়। শেষ ওভারে সমীকরণ কঠিন হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের জন্য। রানের চাপে পরেই শেষ ওভারে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন জেকব ব্যাথেল। এই ম্যাচের পর আবারও পরিষ্কার হয়ে গেল—ভারতের বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা জসপ্রীত বুমরাহ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর শীতল মাথা ও নিখুঁত বোলিংই দলকে এনে দিল ফাইনালের টিকিট।
