সৌরভ মুখার্জি, বেঙ্গালুরু : ১৯৬১ থেকে ১৯৬৮, টানা আট বছর মোহনবাগানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফি খেলেছেন, জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ভারতকে স্বর্ণপদক এনে দিয়েছেন। মোহনবাগানের জার্সি গায়ে ট্রফির সংখ্যা ১৫। জিতেছেন ডুরান্ড কাপ, রোভার্স কাপ, কলকাতা লিগ, আইএফএ শিল্ডের মত প্রতিযোগিতা। কথা হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তি অরুময় নাইগমকে নিয়ে। বয়স ৮৩ বছর, প্রাকৃতিক নিয়মে শরীরে ভাঙন ধরলেও, স্মৃতি এখনও টাটকা। মোহনবাগান জার্সিটা হাতে পেয়েই মুখে মুক্তোর মত এক ঝলক হাসি। স্মৃতির সরণী বেয়ে ফিরে গেলেন ৬০-এর দশকে। জড়তা মেশানো স্বরে বললেন, “মোহনবাগান এখনও আমার হৃদয়ে। আমি আজীবন মোহনবাগানকে মনে রাখতে চাই। মোহনবাগানের হয়ে খেলা আমার কাছে একটা বিশেষ অনুভূতি।”
ফুটবল জীবনে চূণী গোস্বামী, পিকে ব্যানার্জির সঙ্গে সাজঘর ভাগ করে নিয়েছেন। সেই সুখস্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, “একসঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলেছি। অনেক লড়াই করেছি। কিছু মুহুর্ত এখনও মনে গেঁথে রয়েছে।” ১৯৬২ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ভারতকে স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন অরুময় নাইগম। সেই স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল। সযত্নে সাজিয়ে রেখেছেন সেই পদক। ঐতিহাসিক জার্সি হাতে নিয়ে বললেন, “দেশের হয়ে পদক জেতার অনুভূতি আলাদা। মনে পড়লে এখনও শিহরিত হয়ে যাই।” কালের নিয়মে বিস্মৃতির পাহাড়ে চাপা পড়ে গিয়েছে অরুময় নাইগমের নাম। সুনীল ছেত্রীর শহরে আজও উজ্জ্বল ভারতীয় ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি অরুময় নাইগম।
